অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
বাংলাদেশ ও চীনের ইউনান প্রদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঢাকায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় সফররত চীনের ইউনান প্রাদেশিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
বৈঠকে দুই অঞ্চলের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা, নতুন বাজার অনুসন্ধান, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সৃষ্টি এবং বাণিজ্যিক সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইউনান প্রাদেশিক বাণিজ্য বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে আসা এই প্রতিনিধিদলে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প খাতের ব্যবসায়ী এবং শীর্ষ উদ্যোক্তারা সরাসরি অংশ নেন। আলোচনায় বাংলাদেশি সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়িক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ইউনানভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি সংযোগ ও টেকসই অংশীদারত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে নতুন বাজারের সম্ভাবনা যাচাই, স্থানীয় এজেন্ট ও পরিবেশক নিয়োগ, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের আমদানি-রপ্তানি, আধুনিক লজিস্টিকস সেবা এবং চট্টগ্রাম বন্দরসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে চীনা প্রতিনিধিদল।
ইউনান প্রাদেশিক বাণিজ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নির্মাণসামগ্রী, প্রকৌশল পণ্য এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা যাচাইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এর পাশাপাশি স্থানীয় বাণিজ্যিক মেলা ও পাইকারি বাজার পরিদর্শন, বিতরণ ও লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং কৃষি ও হালকা শিল্পজাত পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হয়। একই সাথে বাংলাদেশের বিশ্বখ্যাত টেক্সটাইল সামগ্রী ও বিশেষায়িত কৃষিপণ্যের সঙ্গে ইউনান প্রদেশের পণ্যের সরাসরি বাণিজ্যিক মেলবন্ধন তৈরির বিষয়টিও বিস্তারিতভাবে আলোচনায় স্থান পায়।
অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও কার্যকর করতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের বিকল্প নেই।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, বাংলাদেশ ও ইউনান প্রদেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে গতিশীল করতে সরকারি নীতিগত সমর্থনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এজন্য তিনি ব্যবসায়ী-টু-ব্যবসায়ী সংযোগ, নিয়মিত যৌথ বাজার পরিদর্শন এবং কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক খাতগুলোতে সার্বক্ষণিক প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন