বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগের নাম বদল নিয়ে বিরোধ ও তালা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগের নাম বদল নিয়ে বিরোধ ও তালা

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের নাম পরিবর্তন ও অনুষদ স্থানান্তর নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র বিভক্তি দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের এক পক্ষ বিভাগটির নাম পরিবর্তন করে ‘কমিউনিকেশন, মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ’ রাখা এবং একে কলা অনুষদ থেকে সরিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তরের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে অপর পক্ষ বর্তমান নাম ও অনুষদ অপরিবর্তিত রাখার দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

ক্যাম্পাসে এমন অচলাবস্থা শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও পরিবেশ ব্যাহত করছে। বৃহস্পতিবার নাম পরিবর্তনকামী শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে বিভাগের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় তারা নানা ধরনের দাবি সম্বলিত স্লোগান দিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক আদেশ জারির আহ্বান জানায়। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রথম আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি পেশ করেছিল। 

পরবর্তীতে বিভাগের একাডেমিক কমিটির সুপারিশ এবং একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। ওই কমিটি নাম পরিবর্তন এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে রূপান্তরের পক্ষে সুপারিশ করে। ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের অধিবেশনেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইনজামুল হক অভি ফকির জানান, দীর্ঘ চৌদ্দ মাস ধরে তারা এই যৌক্তিক দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে এবার দাবি কার্যকর না হলে আরও তীব্র কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থী মহসিন হক শাহ উল্লেখ করেন যে তাদের পাঠ্যসূচির বড় একটি অংশ গণযোগাযোগভিত্তিক হলেও বিভাগের নামে তা না থাকায় পেশাগত চাকরির ক্ষেত্রে তারা মারাত্মক বৈষম্য ও বাধার মুখে পড়ছেন। তিনি আরও জানান যে দেশের অন্যান্য শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগটি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে পরিচালিত হয়, অথচ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে এটিকে কলা অনুষদে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।

বিপরীত অবস্থানে থাকা শিক্ষার্থীরা এই পরিবর্তনের ঘোর বিরোধিতা করে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুরু থেকেই বিভাগটি মূলত চলচ্চিত্র নির্মাণ ও গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা এই ক্ষেত্রে সুনাম অর্জন করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিভাগের নাম পরিবর্তন করা হলে প্রতিষ্ঠানটি তার মূল স্বকীয়তা হারাবে এবং সাবেক শিক্ষার্থীরাও পরিচয়ের সংকটে পড়বেন। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয় যে চলচ্চিত্র ও মিডিয়ার মৌলিক কোর্স সংকুচিত করে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সাংবাদিকতার পাঠ যুক্ত করা হয়েছে।

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর রানা জানান, চলচ্চিত্র ও গণযোগাযোগ সম্পূর্ণ পৃথক দুটি একাডেমিক ধারা। তারা চলচ্চিত্রে গভীর জ্ঞান অর্জনের প্রত্যাশায় ভর্তি হলেও এখন মূল বিষয়কে দুর্বল করার পাঁয়তারা চলছে বলে তিনি দাবি করেন। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনোজ কুমার প্রামাণিকও এই পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে শিক্ষার্থীরা নাম পরিবর্তনের বিতর্ক না তুলে সাংবাদিকতার জন্য সম্পূর্ণ আলাদা বিভাগ খোলার দাবি তুললে তা অধিকতর সংগত হতো। তার মতে, চলচ্চিত্রের বিশেষায়িত ধারা থেকে বিভাগকে সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন যে বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় তোলা হবে। তিনি জানান যে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণের পর আগামী ৩ অক্টোবর সিন্ডিকেটের সদস্যরা এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন স্পষ্ট করেন যে সিন্ডিকেটের ১৪ জন সদস্যের সম্মিলিত মতামতের বাইরে তার একক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থ এবং অধিকাংশের মতামতকে বিবেচনায় নিয়েই প্রশাসন চূড়ান্ত সমাধান টানবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।