শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,

চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে বিএনপিতে কঠোর শুদ্ধি অভিযান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৯:৫২ এএম

চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে বিএনপিতে কঠোর শুদ্ধি অভিযান

ক্ষমতায় আসার পর দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখল, হামলা, ভাঙচুর ও নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃণমূল পর্যায়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাংগঠনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। বৃহস্পতিবার তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে স্পিকার পদত্যাগের বিষয়টি ঘোষণা করলে সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। তবে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সমিতির সঙ্গে বর্তমানে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে সাংগঠনিক পর্যায়েও বড় ধরনের সিদ্ধান্ত এসেছে। বুধবার রাতে ৫১ সদস্যের ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। আমিনুল হককে আহ্বায়ক ও মোস্তফা জামানকে সদস্য সচিব করে গঠিত এই কমিটির পরিবর্তে দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে। একই রাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এর পাশাপাশি বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির তিনজন নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এসেছিল।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার নেতাকর্মীকে বিশৃঙ্খলার দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সরকার গঠনের পরও একটি অংশের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর ও অবৈধ দখলের ঘটনায় সরকার বিব্রত। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, গুটিকয়েক ব্যক্তির অপরাধের দায় দল নেবে না। তিনি স্পষ্ট করেন, দলীয় আদর্শের বাইরে গিয়ে কেউ অপকর্মে জড়ালে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযানের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। তবে এটি ২০০৪ সালের বিশেষ অভিযানের মতো হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দেশব্যাপী কিশোর গ্যাং দমনে ইতিমধ্যে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, জমি দখল, সহিংসতা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গে অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর দর্শনা পৌর যুবদলের সদস্য রাকিবুল হাসান ব্রাইটকে বহিষ্কার করা হয়। ২২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষক দলের সদস্য সচিব সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ ফয়সলকে তেল ডিপোর কর্মীদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং পরে দল থেকে তাকেও বহিষ্কার করা হয়।

এর আগে ২১ জুন চাঁদাবাজির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে পুলিশ আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হলেও তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। প্রমাণিত অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো মিথ্যা অভিযোগ থাকলে তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।