অক্টোবর ২, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাবে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। তেলের এই অস্থিরতার মধ্যেই গত এক সপ্তাহে নতুন করে চড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, পলাশী বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। ভোজ্যতেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, কোম্পানিগুলো বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল কম পরিমাণে সরবরাহ করছে। ফলে তারাও ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। ডিলারদের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে, কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। দোকানগুলোতে এখন চাহিদা অনুযায়ী এক, দুই ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল মিলছে না। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের অন্তত ছয়টি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানে মাত্র চার থেকে পাঁচটি করে তেলের বোতল অবশিষ্ট রয়েছে। অনেক দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতল একেবারেই নেই।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বোতলজাত তেলের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। আবার স্বল্প সরবরাহের কারণে অনেক বিক্রেতা নিয়মিত ক্রেতাদের জন্য তেল আলাদা করে সরিয়ে রাখছেন। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি বিক্রেতা ইমান আলী বলেন, "আমার দৈনিক প্রায় ১০ কার্টন সয়াবিন তেল লাগে। ডিলারের কাছ থেকে পেয়েছি মাত্র ৪ কার্টন। নিয়মিত গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে কিছু বোতল আলাদা সংরক্ষণ করে রাখতে হচ্ছে।"
বোতলজাত তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় খোলা তেলের ওপর চাপ ও দাম দুটোই বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় উঠেছে। একই সঙ্গে খোলা পাম তেলের দাম শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চলতি বছর এ নিয়ে তিন দফায় বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট তৈরি হলো। বছরের শুরুতে ফেব্রুয়ারিতে প্রথম দফায় সংকটের পর এপ্রিলের শেষে বোতলজাত সয়াবিনের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছিল। এরপর জুলাইয়ে পুনরায় সংকট দেখা দিলে ৩ সেপ্টেম্বর দাম আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে প্রতি লিটার ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সয়াবিন তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে বুধবার সিলেটে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর দাবি জানালেও সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে এবং অযৌক্তিকভাবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন