নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
রমজান শুরু হওয়ার এখনো কয়েক মাস বাকি। এরই মধ্যে ছোলার কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বাজারে। পণ্যটির দাম কেজিতে বেড়ে গেছে প্রায় দশ থেকে পনেরো টাকা। কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকটও; বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। সেইসঙ্গে এখনো চড়া মাছের বাজার।
এদিকে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় কিছু সবজির দাম কমেছে। তবে টমেটো, কাঁচামরিচ, গাজর ও গোল বেগুনের মতো কয়েকটি পণ্য এখনো বেশ চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। গত শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।
রাজধানীর বাজারগুলোতে এখন প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে এক শ দশ থেকে এক শ পনেরো টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ছিল এক শ টাকার মধ্যে। একইভাবে ছোলার ডালের দাম বেড়ে হয়েছে এক শ বিশ থেকে এক শ ত্রিশ টাকা।
মালিবাগ এলাকার দোকানি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পাইকারি আড়তদাররাই এখন ছোলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে যে ছোলা তাঁরা বিরানব্বই থেকে পঁচান্বিতাকায় কিনেছেন, সেটাই এখন পাইকারিতে এক শ দুই থেকে এক শ পাঁচ টাকা পড়ছে। রমজান আসার আগেই পাইকারি বাজার চড়ে গেছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ছে।
ছোলার দাম বেড়ে যাওয়া পুরোপুরি সিন্ডিকেটের কারসাজি উল্লেখ করে জামিল হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, রমজান আসতে এখনো কয়েক মাস বাকি, এর মধ্যেই এভাবে ছোলার দাম বেড়ে যাবে; ভাবা যায় না। প্রতি বছর রমজানের অজুহাতে আগেভাগেই জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা যায়।
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে ডিমের দাম। ফার্মের মুরগির ডিমের দাম পাইকারি বাজারসংলগ্ন এলাকায় কিছুটা কমে প্রতি ডজন এক শ ত্রিশ থেকে এক শ চল্লিশ টাকা হয়েছে, যা গত সপ্তাহে দশ টাকা বেশি ছিল।
এছাড়া বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ সবজির দাম পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকায় নেমেছে। তবে কিছু সবজি এখনো ক্রেتهای নাগালের বাইরে। বাজারভেদে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ষাট থেকে আশি টাকায়। আকারভেদে প্রতি পিস ফুলকপি চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ টাকা এবং বাঁধাকপি পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি চল্লিশ থেকে ষাট টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু ষাট টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকা; বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ষাট থেকে আশি টাকা। প্রতি পিস লাউয়ের দাম চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ টাকা। পেঁপে ত্রিশ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা এবং আলু পঁচিশ থেকে ত্রিশ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আর বেগুনের দাম জাত ও আকারভেদে চল্লিশ থেকে সত্তর টাকা হলেও গোল বেগুনের কেজি এক শ বিশ টাকা।
অন্যদিকে টমেটো ও কাঁচামরিচের কেজি এক শ বিশ টাকা করে; গাজর বিক্রি হচ্ছে এক শ চল্লিশ টাকায়। শসার ক্ষেত্রেও রয়েছে দামের পার্থক্য। এ ছাড়া প্রতি কেজি দেশি শসা আশি টাকা এবং হাইব্রিড শসা ষাট টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উত্তরার আজমপুর সমবায় মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আরিফ বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ এখন অনেক বেড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে সামনের দিনগুলোতে দাম আরও কমতে পারে।
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। আগের সপ্তাহের মতো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ। প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে দুই শ আশি থেকে তিন শ আশি টাকা, বড় তেলাপিয়া এক শ ৮০ থেকে দুই শ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প এক শ আশি থেকে দুই শ টাকা এবং পাঙাশ এক শ ষাট থেকে দুই শ পঞ্চাশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাতলা সাড়ে তিন শ থেকে তিন শ আশি টাকা, চাষের কই দুই শ থেকে দুই শ বিশ টাকা এবং পাবদা তিন শ আশি থেকে চার শ বিশ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইলিশের দাম এখনো বেশ চড়া। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ইলিশের দাম আট শ থেকে দুই হাজার তিন শ টাকা। কোনো কোনো বাজারে বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ছয় শ টাকা পর্যন্ত।
মাংসের বাজারে দামের তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে এক শ সত্তর থেকে এক শ নব্বই টাকা এবং সোনালি মুরগি দুই শ চল্লিশ থেকে তিন শ ত্রিশ টাকা। এ ছাড়া গরুর মাংস প্রতি কেজি আট শ থেকে আট শ পঞ্চাশ টাকা এবং খাসির মাংস এক হাজার দুই শ থেকে এক হাজার দুই শ পঞ্চাশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
এদিকে, বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকা ছিল। তবে এখনো চড়া আছে আদা-রসুনের দাম। প্রতি কেজি রসুন এক শ পঞ্চাশ থেকে এক শ আশি টাকা এবং আদা এক শ চল্লিশ থেকে এক শ নব্বই টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি। প্রতি কেজি সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে দুই শ পাঁচ থেকে দুই শ দশ টাকায়। এ ছাড়া চিনি বিক্রি হচ্ছে এক শ দশ থেকে এক শ পনেরো টাকা কেজি। মসুর ডালের দাম মানভেদে নব্বই থেকে এক শ পঁচান্ন টাকা কেজি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন