অক্টোবর ৯, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
রাজধানীর কাঁচামালের বাজারে শীতকালীন সবজি শিম, ফুলকপি ও মুলা উঠতে শুরু করেছে। তবে অন্যান্য সবজির দাম আগের মতো থাকলেও আগাম সবজির দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। মাছ ও মাংসের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত থাকলেও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন সবজি শিমের কেজি ১৫০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা পিস এবং মুলা ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। তবে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। যদিও দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, যার কেজি ৩০ টাকা।
এদিকে সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় ঠেকেছিল, তবে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম সবচেয়ে বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।
সবজি ক্রেতা আবু দাউদ বলেন, ১৪০ টাকা দিয়ে ফুলকপি দুই পিস কিনেছি। নতুন সবজি তাই কিনলাম। একটি লাউ ৫০ টাকা আর এক পোয়া মরিচ ৪০ টাকায় কিনেছি।
বাজারে আরও ঘুরে দেখা যায়, মুরগির বাজারে দামে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দাম আগের চেয়ে ডজনে ১০ টাকা কমেছে। প্রতি ডজন ডিম ১৪০ টাকা ও হালি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা মাসুম আল হাসান বলেন, এখন ফার্মের মুরগির ডিম ১৪০ টাকা ডজন বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে গরুর মাংসের দাম আগের মতোই আছে এবং আটশ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে আছে। এক সপ্তাহে দশ টাকা কমে আবার অন্য সপ্তাহে দশ টাকা বাড়ে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দুই শ টাকার আশপাশে দাম থাকে। আর সোনালি মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে থাকে। আজকে ৩১০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।

এদিকে মাছের বাজারের চিত্রও প্রায় একই রকম। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি এক হাজার থেকে এক হাজার তিনশ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে চারশ টাকা, বড় আকারের রুই সাড়ে চারশ থেকে পাঁচশ টাকা এবং ট্যাংরা সাতশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি চারশ থেকে সাড়ে পাঁচশ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে তিনশ টাকা, বাইম ছয়শ থেকে আটশ টাকা, দেশি কই সাতশ থেকে আটশ টাকা, চাষের কই তিনশ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল সাতশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে তিনশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা দরে। এছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের আকার এবং মাছ জীবিত বা মৃত হওয়ার ওপরও দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে দশ থেকে বিশ টাকা কেজিপ্রতি কমবেশি হতে পারে। মাছ বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন বলেন, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্রবার মাছের চাহিদা ও দাম একটু বেশি থাকে। দুই শ টাকার নিচে কোনো মাছ নেই। আগে পাঙাশ কম ছিল, সেটার দামও এখন দুই শ টাকার উপরে। মাছের দাম সব সময় সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন