শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬,

নারীর কাজের পুরো মূল্য জিডিপিতে দেখা যায় না: ড. ফাহমিদা খাতুন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

নারীর কাজের পুরো মূল্য জিডিপিতে দেখা যায় না: ড. ফাহমিদা খাতুন

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের কাজের পুরো মূল্য জাতীয় জিডিপিতে দেখা যায় না। শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ, গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়ন, মজুরি বৈষম্য এবং প্রযুক্তির যুগে নারীদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন।

বাংলাদেশের পোশাক ও কৃষি খাতে নারীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু তাঁদের কাজের পুরো মূল্য জিডিপিতে দেখা যায় না। কৃষিকাজের অনেক অংশ অনানুষ্ঠানিক, আর ঘরের কাজ—যেমন রান্না, শিশুর যত্ন ও পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা—বাজারে কেনাবেচা হয় না। প্রচলিত জিডিপিতে সাধারণত বাজারে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মূল্য ধরা হয়।

অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজের মূল্য হিসাব করা সম্ভব। সময় ব্যবহার বা টাইম ইউজ পদ্ধতিতে নারীরা দিনে কত ঘণ্টা কাজ করছে এবং একই কাজের জন্য বাজারে কত মজুরি দিতে হতো—এই ভিত্তিতে একটি আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা যায়। জিডিপি হিসাবের পাশাপাশি আলাদা স্যাটেলাইট হিসাব করলে কাজটির প্রকৃত অর্থনৈতিক গুরুত্ব বোঝা যাবে।

নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বাড়লেও উচ্চ পদে তাদের উপস্থিতি এখনো সীমিত। শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ করা প্রায় নব্বই শতাংশ নারী অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। উচ্চপদে কম অংশগ্রহণ করার পেছনে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে সুযোগের অভাব ও অনেক সময় পক্ষপাত, ঘরের এবং কেয়ার বা যত্নের কাজের অসম ভার, নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাব এবং নেতৃত্বের সুযোগ সীমিত থাকা দায়ী।

উভয় ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে মজুরি বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করতে বাজার ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। মজুরি বৈষম্য কমাতে একই কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত, বেতন প্রকাশ, বৈষম্যের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা দরকার।

প্রযুক্তির উন্নয়ন ও অটোমেশনের ফলে নারীরা কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন, যার উদাহরণ পোশাক খাতে নারীদের হার কমে যাওয়া। এই ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে নারীদের শ্রমবাজারে টিকিয়ে রাখতে বহুমুখী পুনঃদক্ষতা প্রয়োজন। অটোমেশনের যুগে নারীদের ডিজিটাল দক্ষতা, যন্ত্র পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রশিক্ষণের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নতুন কাজে প্রবেশের সুযোগও জরুরি।