অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:৫০ এএম
কূটনৈতিক আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ পুরো ইরানি প্রতিনিধিদলকে অবিলম্বে ভূখণ্ড ছাড়ার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তারা নিউইয়র্ক গিয়েছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে অবস্থিত ইরানি মিশনে এই কঠোর বার্তা পৌঁছে দেয় জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন মিশন।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আনুষ্ঠানিক অধিবেশন শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের আর সেখানে অবস্থানের সুযোগ নেই। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই কঠোর অবস্থান নেয় ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দেশ পাওয়ার পর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটা বিশ মিনিটে নিউইয়র্কের বিমানবন্দর থেকে কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশে বিমানে ওঠেন। তবে সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্রের দাবি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সোমবার রাতেই তেহরানে ফিরে যাওয়ার পূর্বনির্ধারিত সূচি ছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, সোমবার সকালে হোয়াইট হাউস ইরানের সাথে একটি অর্থবহ সমঝোতার আশা করলেও দিনের শেষভাগে দুই পক্ষের আলোচনা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতির মাঝেও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতার লক্ষ্যে নেপথ্য তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপট মূলত দীর্ঘ সামরিক সংঘাতের ধারাবাহিকতা।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সাথে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। পরবর্তীতে যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে জুন মাসে উভয় দেশ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। ওই সনদে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার তাৎক্ষণিক কিছু রূপরেখা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন