বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
আউটসোর্সিং

বেকারত্বের ঝুঁকিতে ২ লাখ কর্মী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:২৫ এএম

বেকারত্বের ঝুঁকিতে ২ লাখ কর্মী

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় জনবল সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্তে নতুন করে সংকটে পড়েছে আউটসোর্সিং খাত। অর্থ বিভাগ সম্প্রতি সেবা গ্রহণ নীতিমালায় যে সংশোধনী এনেছে, তার ফলে সারা দেশে প্রায় দুই লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার পাশাপাশি প্রায় এক হাজার আটশত লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‍‍`আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা-২০২৫‍‍`-এর বিতর্কিত সংশোধনীটি অবিলম্বে বাতিল ও প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছেন খাতটির উদ্যোক্তারা।

হঠাৎ জারি করা সরকারি এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে দেওয়া এক লিখিত যৌথ আবেদনে সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, তারা দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় বিধি মেনে কর্মী দিয়ে আসছেন। দেশের প্রচলিত শ্রম আইন, সরকারি ক্রয় আইন এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা মেনেই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। 

কোনো প্রকার পূর্ব আলোচনা বা অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় ছাড়াই গত ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে নতুন সেবা নেওয়ার পথ রুদ্ধ করে দেয়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, এখন থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হয় সরাসরি ব্যক্তির সাথে চুক্তি করবে অথবা সরকার অনুমোদিত বিশেষায়িত কোনো সরকারি সংস্থার মাধ্যমে সেবা সংগ্রহ করবে।

নীতিমালার এই পরিবর্তনের ফলে শুধু প্রতিষ্ঠানগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং রাষ্ট্রও মোটা অঙ্কের আয় হারাবে। উদ্যোক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০০৮ সালে এই সেবা সংক্রান্ত নীতিমালা চালু হওয়ার পর ২০১৮ সালের কাঠামোর মাধ্যমে এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় এবং ২০২৫ সালের নীতিমালায়ও সেই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে নবায়ন ফি, নিরাপত্তা জামানত, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর পরিশোধ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে সমৃদ্ধ করছে। এই খাতটি আকস্মিকভাবে সংকুচিত হলে হাজার হাজার পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আহরণেও সরাসরি নেতিবাচক ধাক্কা লাগবে। বিদ্যমান সরকারি ক্রয় আইনের সঙ্গে এই নতুন সংশোধনী সরাসরি সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেন তারা।

অর্থ বিভাগের সংশোধিত নীতিমালায় অবশ্য আউটসোর্সিং কর্মীদের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সরাসরি পারিশ্রমিক পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়া কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্মী অদলবদল করতে পারবে না এবং চুক্তিবহির্ভূত কাজে কাউকে পদায়ন করা যাবে না বলেও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। চুক্তি লঙ্ঘন করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও বেসরকারি খাতকে বাদ দিয়ে সেবা নেওয়ার শর্তটি পুনর্বিবেচনা করে অংশীজনদের সাথে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।