বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

শিবির থেকে বহিষ্কৃত সালাউদ্দীন আম্মারের নথি ফাঁস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:০৬ এএম

শিবির থেকে বহিষ্কৃত সালাউদ্দীন আম্মারের নথি ফাঁস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্রনেতা সালাউদ্দীন আম্মারকে এক বছর আগেই ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সংগঠনটির দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে পাঠানো একাধিক আনুষ্ঠানিক চিঠিপত্র ও নথির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বুধবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সীর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের পর অভ্যন্তরীণ তদন্তে সাংবাদিকদের হাতে এই চিঠিগুলো পৌঁছায়।

সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সংগঠনটি। প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রথম চিঠিটি ইস্যু করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী মহানগর ও জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে সালাউদ্দীন আম্মারের বিরুদ্ধে, যা সংবাদমাধ্যমেও আসে। 

পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগ থাকায় ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সেক্রেটারিয়েট বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার সাথী পদ স্থগিত করা হয়। পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত দ্বিতীয় চিঠিতে জানানো হয়, বারবার সতর্ক ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও শৃঙ্খলাবহির্ভূত আচরণ অব্যাহত রাখায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি তার সাথী পদটি চূড়ান্তভাবে বাতিল করেন। বহিষ্কারাদেশের প্রায় এক বছর পর ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরে আরেকটি সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানো হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, মৌলিক ধর্মীয় কর্তব্যে উদাসীনতা, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন, নারীঘটিত অনিয়ম ও উসকানিমূলক তৎপরতার দায়ে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সাথে শিবিরের কোনো নেতাকর্মীকে তার অনলাইন বা অফলাইন কার্যক্রমে প্রতিক্রিয়া না জানাতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজন ব্যতীত যোগাযোগ না রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি সামনে এনে সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সী প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত নেতা খালিদুজ্জামানের সাথে আম্মার রানিং পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করছেন কি না তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন, কারণ বহিষ্কৃতদের সাথে দলের কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ থাকে না।

এসব অভিযোগ ও ফাঁস হওয়া চিঠির সত্যতা জানতে সালাউদ্দীন আম্মারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে নথিগুলো শতভাগ সত্য এবং ২০২৫ সালেই তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।