অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
দেশের সামগ্রিক রাজনীতি একটি সুবিধাবাদী চক্রের হাতে চলে যাচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ, ছাত্র নেতৃত্বের বণ্টন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম জনমত তৈরি এবং বিভিন্ন দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, দীর্ঘ সতেরো বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও অনেকে আকস্মিকভাবে নেতা বনে গেছেন, যার উদাহরণ হিসেবে তিনি সালাউদ্দীন আম্মারের নাম উল্লেখ করেন।
জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব বণ্টন নিয়ে পক্ষপাতিত্বের তীব্র অভিযোগ তুলেছেন তিনি। উমামা ফাতেমা দাবি করেন, আন্দোলন চলাকালে অন্যান্য সকল ছাত্র সংগঠনকে বাইরে রেখে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির ঘনিষ্ঠ বলয়ের লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই সাংগঠনিক কোরামের কারণেই ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর অনভিজ্ঞ ও অপরিচিত ব্যক্তিরা সর্বেসর্বা হয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। যারা জুলাইয়ের স্বতঃস্ফূর্ত জনআন্দোলনকে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থে বন্দি করেছে, তাদের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে তিনি একটি বিশেষ সুবিধাবাদী পক্ষ বলে আখ্যায়িত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম নায়ক তৈরির তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। উমামার অভিযোগ, পর্দার আড়ালে থাকা বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী দল ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আন্দোলনের নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কৃত্রিম জনসম্মতি বা ম্যানুফ্যাকচার্ড কনসেন্ট তৈরি করছে। তরুণদের সামনে কৃত্রিমভাবে কিছু চরিত্রকে বীর হিসেবে তুলে ধরে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে একটি নির্দিষ্ট চক্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। মিয়ানমারে সংঘটিত রোহিঙ্গা নিধনে ফেসবুকের ভূমিকার উদাহরণ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে জনমত বিকৃত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের মধ্যবিত্ত সমাজের রাজনীতিবিমুখ মানসিকতা এই পরিস্থিতির জন্য আংশিক দায়ী বলে মনে করেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন যে মধ্যবিত্তের রাজনীতি এড়িয়ে চলার মানসিকতা থেকে হঠাৎ সচেতন হওয়া এবং অনলাইনে একেক দিন একেকজনকে নেতা বানানোর প্রবণতা এই সংকট তৈরি করেছে। রাজনৈতিক ইতিহাসের পাঠ তুলে ধরে তিনি বলেন, এতদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক যাত্রাকে ৫০ বছরের পরিক্রমা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এখন জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানের কারণে সেই আলোচনাকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে গণনা করতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশলে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের দায় আড়াল করতে দলটি দেশকে যেকোনো চরম পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পিছপা হবে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন