বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

আবরার ফাহাদ হত্যার পরও রাজপথ ছাড়েনি ছাত্রদল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

আবরার ফাহাদ হত্যার পরও রাজপথ ছাড়েনি ছাত্রদল

শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের নিচতলায় অ্যাসেম্বলি অ্যাসোসিয়েশনের মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

‘বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি: আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অখণ্ডতা সুরক্ষায় অঙ্গীকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তব্য দেন ছাত্রদল সভাপতি।

বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করেছিল ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা।

একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় পুরো দেশ স্তব্ধ ও হতভম্ব হয়ে পড়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই সর্বপ্রথম রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। আবরারের শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি তাদের ধৈর্য ধারণের জন্য দোয়া করেন।

বিগত সরকারের আমলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি। তিনি বলেন, তাদের অসংখ্য নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। আবরার ফাহাদের মতো তাদের গুম হয়ে যাওয়ার কোনো সিসিটিভি ফুটেজ তারা পাননি। বিশেষ করে ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়েছিল এবং দলীয় বহু নেতাকর্মী চিরতরে হারিয়ে গেছেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে ঘাতকরা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরও ছাত্রদল কখনো রাজপথ ছেড়ে যায়নি।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, এখন যারা বড় বড় কথা বলছেন, অতীতে সংকটের সময় তাদের অনেককেই রাজপথে দেখা যায়নি। বরং তাদের অনেককেই একসময় ছাত্রলীগের পতাকাতলে মিছিল করতে দেখা গেছে।

একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন স্লোগান ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ আজ জীবিত থাকলে এসব অপতৎপরতা দেখে কষ্ট পেতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো দিক বাদ রাখা হয়নি, যেখানে আক্রমণাত্মক নোংরামি করা হয়নি।

তিনি স্পষ্ট জানান, আবরার ফাহাদ যেভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভাষায় প্রতিবাদ করেছিলেন, ছাত্রদল সেই আদর্শ থেকেই শিক্ষা নিয়েছে এবং সেই পথেই প্রতিবাদ জারি রাখবে।

আবরার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, এ মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে মুনতাসীর নামে একজন কারাগার থেকে পালিয়ে গেছে। আজকের দিন পর্যন্ত তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, যার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষে জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির আইনি লড়াইয়ে যুক্ত রয়েছেন, যার মধ্যে ষড়যন্ত্রের যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে একটি তথাকথিত গুপ্ত সংগঠন কোনো কথা বলে না এবং কোনো সহযোগিতাও করে না।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়ে শহীদ হয়েছেন এবং ছাত্রদলও অবিচলভাবে সেই পথেই রয়েছে। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথ অনুসরণ করেই ছাত্রদল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে অবস্থান নিয়ে থাকবে।