অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
আবরার ফাহাদ হত্যার রায় দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে নির্যাতনে নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ও ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনা করেন। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করা হয়েছিল এবং তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে তাদের কথা শুনেছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সাত বছর পেরিয়ে গেলেও আপিল বিভাগে মামলাটি এখনো বিচারাধীন অবস্থায় আটকে রয়েছে। আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকরের পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার আশ্বাস দেন। আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ জানান, সরকারপ্রধান তাদের সার্বিক পারিবারিক খোঁজখবর নিয়েছেন।
ফাইয়াজ বলেন, বিগত ১৭ বছরে সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রণয়নের দাবি জানানো হলে প্রধানমন্ত্রী জানান যে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে এ ধরনের তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। দেশে যেন আর কোনো শিক্ষার্থীর এমন করুণ পরিণতি না ঘটে, সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
সাক্ষাতে বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি আবাসিক হলের নামকরণের অনুরোধ করা হলে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং দ্রুততম সময়ে এ সংক্রান্ত সম্ভাবনা যাচাইয়ের আশ্বাস দেন। এছাড়া বুয়েটে যাওয়ার আমন্ত্রণও সরকারপ্রধান সক্রিয় বিবেচনায় রেখেছেন বলে জানানো হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি তোলা হলে প্রধানমন্ত্রী তা দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নির্মিত সেতুটি অবশ্যই শহীদ ছাত্র আবরার ফাহাদের নামেই নামকরণ করা হবে।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারান তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলার রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের আপিল শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় বহাল রাখেন। সাজাপ্রাপ্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করার পর বর্তমানে মামলাটি চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন