বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এবং তাদের এক মামা ও এক চাচা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পারিবারিক সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

আলোচনাকালে আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ তার ছেলে হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতের চূড়ান্ত রায় কার্যকরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিষয়টি বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ে বিচারাধীন। আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

ছেলের স্মৃতির পাশাপাশি জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরে আবরারের বাবা কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করছেন। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন এবং স্থানীয় জনগণের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেতুটির নাম ‍‍`আবরার ফাহাদ সেতু‍‍` রাখার ঘোষণা দেন।

একই সঙ্গে আবরারের কবর স্থায়ীভাবে পাকাকরণ এবং সংলগ্ন মসজিদের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে পরিবারের পক্ষ থেকে সহায়তা চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের মসজিদটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন।

কারাগার থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন আবরারের বাবা। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, মামলার একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কারাগার থেকে পলাতক ও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা সব আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

ক্যাম্পাসগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের আকুতি জানান আবরারের মা রোকেয়া খাতুন।

তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। শিক্ষাঙ্গনে যেন আর কখনো অতীতের সেই বিভীষিকাময় ও সন্ত্রাসী পরিবেশ ফিরে না আসে এবং কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে সন্তান হারিয়ে খালি না হয়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সাক্ষাতে আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে আসার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। এর পাশাপাশি বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন আবাসিক হল নির্মাণের জোর দাবি জানান তিনি। ফাইয়াজের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আগামী প্রজন্মের কাছে আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের ইতিহাস তুলে ধরতে জাতীয় শিক্ষাক্রমের পাঠ্যবইয়ে আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলেন ফাইয়াজ।

তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিহতের তালিকার পাশাপাশি অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নিপীড়নে নিহতদের একটি সমন্বিত জাতীয় তালিকা প্রণয়নের অনুরোধ জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, অতীতে বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির বিষয়ে একটি বিশেষ প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উক্ত সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বর্বর নির্যাতনে নির্মমভাবে প্রাণ হারান আবরার ফাহাদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি পোস্ট দেওয়ার জেরে তাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ওই নৃশংস ঘটনার পর আবরারের বাবা চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলাটির বিচার শেষে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দেওয়া ওই রায় পূর্ণ বহাল রাখেন। সাজাপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামি আপিল ও লিভ টু আপিল আবেদন করায় বর্তমানে মামলাটির চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া আপিল বিভাগে চলমান রয়েছে।