অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত ও আগ্রাসী শক্তির কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করে জানান, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাবে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এই স্মরণসভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহর পাশে বসার ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি জানান, শহীদ আবরারের বাবার পাশে বসে তিনি অত্যন্ত গর্বিত ও সম্মানিত বোধ করেছেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে বরকত উল্লাহ জানান যে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক রাকসু নির্বাচনে রিজভীকে ভোট দিয়েছিলেন।
সেই স্মৃতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভালোবেসে ভোট দিয়েছিলেন বলেই তিনি সহসভাপতি (ভিপি) হতে পেরেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ বছর পর একজন বীর শহীদের পিতা নিজে এসে যখন সেই সমর্থনের কথা জানান, তখন হৃদয়ে যে গভীর আবেগ ও অনুভূতি তৈরি হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও দুঃশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন এই শীর্ষ নেতা।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকারপ্রধান প্রকাশ্যেই দাবি করেছিলেন যে ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে, তা তারা চিরদিন মনে রাখবে।
এই জাতীয় স্বার্থবিরোধী নতিস্বীকারের বিরুদ্ধেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহসী ও তীক্ষ্ণ প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন আবরার ফাহাদ। সেই স্পষ্টবাদিতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী উল্লেখ করেন, আবরার ফাহাদকে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে পুরো জাতিকে ভয়ের চাদরে ঢেকে ফেলার চক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু সেই হত্যাকাণ্ড দেশপ্রেমিক মানুষের অন্তরে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আগুন আরও তীব্রভাবে জ্বালিয়ে দেয়।
রাশিয়ান চিন্তাবিদ লিও তলস্তয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, অন্যের গভীর বেদনা অনুভব করতে পারাই হচ্ছে প্রকৃত মানবিক অস্তিত্বের প্রমাণ।
আবরারের নির্মম পরিণতি পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছিল এবং মানুষের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ জাগিয়ে তুলেছিল। সেই ঐতিহাসিক গণজাগরণেরই চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব এবং ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আত্মত্যাগ ও রাজপথের ভূমিকার প্রশংসা করে রিজভী জানান, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বারবার রক্তাক্ত হয়েছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে সংগঠনটি কখনো কোনো গোপন বা ছদ্মবেশী কৌশলের আশ্রয় নেয়নি। রাজপথের প্রতিটি আঘাত বুক পেতে সহ্য করেই তারা নিজেদের গণতান্ত্রিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম।
এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন