অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য নয়, বরং মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়াই প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে একটি সামাজিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে রাষ্ট্রীয় সুযোগকে কোনো রাজনৈতিক দলের আনুগত্যের পুরস্কারে পরিণত করা যাবে না। যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একজন নাগরিককে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হলে সেই ঐতিহাসিক ঐকমত্য সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়ে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরি বাতিলের মতো পদক্ষেপকে পুরোপুরি বেআইনি হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। সংবিধানের ২৯(১) অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে সকল নাগরিকের সমান সুযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৭(১) ধারায় মেধা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতাকেই জনবল নিয়োগের একমাত্র আইনি ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো একটি স্বচ্ছ ও বৈধ নিয়োগ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রার্থীর দক্ষতা মূল্যায়িত হবে আইনের আলোকে।
নাগরিক হিসেবে যে কেউ যেকোনো গণতান্ত্রিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকতে পারেন অথবা কোনো দলেই সম্পৃক্ত না থাকতে পারেন। কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইনে বিচারযোগ্য, কিন্তু কোনো অপরাধের প্রমাণ ছাড়া কেবল ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের অজুহাতে চাকরি আটকে দেওয়া স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক আচরণ। জুলাই আন্দোলনের মূল ভিত্তি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন বলে উল্লেখ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের মাধ্যমেই এই গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বৃহত্তর ফ্যাসিবাদবিরোধী ন্যায়বিচারের দাবিতে রূপ নেয়। ফলে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে যদি আবারও চাকরি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দলীয় মতাদর্শের হিসাব নিকাশ শুরু হয়, তবে তা রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতির চরম লঙ্ঘন। নিজের সমর্থকদের সুবিধা দেওয়া যেমন অন্যায়, একইভাবে প্রতিপক্ষের মতাদর্শের মানুষকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করাও সমান অপরাধ। নিয়োগের আগে বা পরে পুলিশি ভেরিফিকেশনের স্বচ্ছতা নিয়ে আটটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চান, কোন আইন বা বিধির অধীনে চাকরি প্রার্থীদের বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে, কোন কর্তৃপক্ষ এই যাচাই চালিয়েছে এবং কী ধরণের প্রশ্ন বা মানদণ্ড সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঠিক কী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে, রাজনৈতিক পরিচয় সিদ্ধান্তের অংশ ছিল কি না, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি আপিলের ব্যবস্থা আছে কি না তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি। রাষ্ট্রের ক্ষমতা যত বড়, তার জবাবদিহিতাও তত বেশি হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৪ ও ৮ ধারার কথা তুলে ধরে তিনি জানান যে নাগরিকদের তথ্য জানার আইনি অধিকার স্বীকৃত। কিছু গোপনীয় তথ্য সংরক্ষণের বিধান থাকলেও যে তথ্যগুলো প্রকাশযোগ্য তা কেন গোপন রাখা হবে সে বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে আইনি ব্যাখ্যা থাকা জরুরি। যাদের চাকরি ভেরিফিকেশনের অজুহাতে বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে, তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথম পদক্ষেপে সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক নথি ও মানদণ্ড প্রকাশের দাবি তুলতে হবে এবং পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক আপিল ও আদালতের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন