সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
বেসরকারি বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরকারের বিদ্যুৎ কেনার দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। সংযোগের ভোল্টেজভেদে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে ৭ টাকা ১১ পয়সা পর্যন্ত। বুধবার সংস্থাটির এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ কেনার এই নির্ধারিত মূল্যহার ও সরকারি সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের মাশুলের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। আগামী অক্টোবর মাস থেকে নতুন এই ট্যারিফ কাঠামো কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে একক পাইকারি ক্রেতা হিসেবে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। ৩৩ কিলোভোল্ট সংযোগের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৬ টাকা ৯৮ পয়সা। অন্যদিকে তুলনামূলক উচ্চক্ষমতার ১৩২ কিলোভোল্ট সংযোগের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ৭ টাকা ১১ পয়সা। বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সরাসরি শিল্পকারখানা ও বৃহৎ বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছেও নিজেদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে।
এ ক্ষেত্রে উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ক্রেতারা আলোচনার মাধ্যমে নিজস্ব ক্রয়মূল্য চূড়ান্ত করবেন। তবে রাষ্ট্রীয় সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ব্যবহার করতে হলে নির্ধারিত হারে ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ বা গ্রিড ব্যবহার মাশুল পরিশোধ করতে হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহকের সংযোগের স্তরভেদে এই মাশুল প্রতি ইউনিটে এক টাকা ২২ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ এক টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সরাসরি জাতীয় গ্রিডে এবং গ্রাহক সরকারি বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে যুক্ত থাকলে ২৩০ কিলোভোল্টে প্রতি ইউনিটে মোট মাশুল পড়বে এক টাকা ৫৯ দশমিক ৮৯ পয়সা। একই ব্যবস্থায় ১৩২ কিলোভোল্টে মাশুল এক টাকা ৬০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কিলোভোল্টে এক টাকা ৬০ দশমিক ৯৭ পয়সা হবে। এই খরচের মধ্যে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয়ের পাশাপাশি হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির চার্জ অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। শুধু সঞ্চালন মাশুল হিসেবে ২৩০ কিলোভোল্টে প্রতি ইউনিটে ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কিলোভোল্টে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কিলোভোল্টে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা দিতে হবে। গ্রাহকপ্রান্তে বিদ্যুৎ গ্রহণের বিতরণ মাশুল ধরা হয়েছে এক টাকা ১৭ পয়সা এবং হিসাব ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত পাঁচ পয়সা পরিশোধ করতে হবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক সঞ্চালন ব্যবস্থার দুই প্রান্তে ভিন্ন বিতরণ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রান্তে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা বিতরণ মাশুল যুক্ত হবে।
ফলে দুই প্রান্তে ভিন্ন সংস্থা থাকলে ২৩০ কিলোভোল্টে মোট মাশুল বেড়ে হবে এক টাকা ৮৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কিলোভোল্টে এক টাকা ৯০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কিলোভোল্টে এক টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা। তবে উভয় পক্ষ একই বিতরণ সংস্থার আওতাভুক্ত থাকলে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা মাশুল এবং সরবরাহ প্রান্তের সিস্টেম লস আরোপ করা হবে না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন সব পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে একটি অভিন্ন বিতরণ সংস্থা হিসেবে গণ্য করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক একই সংস্থায় যুক্ত থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহার না করলে মোট গ্রিড মাশুল নেমে আসবে ইউনিটপ্রতি এক টাকা ২২ পয়সায়।
সংস্থাভেদে একক বিতরণ মাশুলও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পিডিবির নিজস্ব নেটওয়ার্কের জন্য প্রতি ইউনিটে বিতরণ মাশুল ৭০ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে এক টাকা ৪৩ পয়সা, ডিপিডিসিতে ৮৫ পয়সা এবং ডেসকোর ক্ষেত্রে ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে ৮৭ পয়সা ও নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানিতে মাশুল হবে এক টাকা চার পয়সা। বিদ্যুৎ সরবরাহের সঞ্চালন লসের ক্ষেত্রে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির প্রতি মাসের গড় বাস্তব হার এবং বিতরণ লসের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সমাপ্ত অর্থবছরের অর্জিত স্তর বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বাণিজ্যিক সৌরকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পূর্ণ হিসাব ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বিল নিষ্পত্তির সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে প্রণীত মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই কাঠামোর আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের ঘোষিত মাসিক উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করতে পারবে এবং অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরাসরি বৃহৎ বাণিজ্যিক ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবে। এর আগে গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ইউনিটপ্রতি ছয় টাকা ৪৮ পয়সা দরের প্রস্তাব করেছিল, যেখানে বড় গ্রাহক হারানোর রাজস্ব ঝুঁকি তুলে ধরেছিল বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন