সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের কেবল আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে তাদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক ও তরুণ প্রতিনিধিরা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ভয়েস এবং দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের বাস্তব প্রভাব নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। আলোচকরা উল্লেখ করেন যে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগী ও নেতৃত্বমূলক ভূমিকার পর রাষ্ট্র সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে তাদের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, ভাবনা ও প্রত্যাশাকে নাগরিক পরিসরে জোরালোভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে আরও বেশি সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাংলাদেশে সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ বা জয়ি শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে সংস্কার প্রক্রিয়ার নানা দিক, নীতি প্রণয়নে তরুণদের মতামত অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং সংবাদমাধ্যমের দায়বদ্ধতা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়। এতে জাতীয় পর্যায়ের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং তরুণ অ্যাক্টিভিস্টরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন যে তরুণদের বিভিন্ন দাবি, উদ্বেগ ও প্রস্তাবনা কেবল মিলনায়তনের সেমিনার কিংবা প্রতীকী গোলটেবিল আলোচনার গণ্ডিতে আটকে রাখলে চলবে না। এসব সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবকে বৃহত্তর জনপরিসরে বিতর্কের অংশ করতে হবে। তরুণদের সাথে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ জনগণের কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরিতে সংবাদমাধ্যম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাগত যথার্থতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল আহমেদ বলেন যে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার পূর্বশর্ত হলো একটি স্বাধীন ও নির্ভীক সংবাদমাধ্যম। সংস্কার নিয়ে তরুণদের যে ভাবনা তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলগুলোর সামগ্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। সংবাদ সম্পাদক কামরুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের মতকে নিছক আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব না দিয়ে নীতিনির্ধারণী স্তরে তাদের বাস্তবিক ও কার্যকর অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে হবে। তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষা নাগরিকদের সামনে প্রকাশের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া গণমাধ্যমের একটি প্রধান দায়িত্ব।
জ্যেষ্ঠ কলামিস্ট সোহরাব হাসান বলেন যে তরুণদের সাথে গণমাধ্যমের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও পেশাগত সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে নতুন প্রজন্মের কণ্ঠ আরও শক্তিশালীভাবে জাতীয় আলোচনায় প্রতিফলিত হবে। সাংবাদিক আয়েশা কবির মত প্রকাশ করেন যে তরুণদের দাবিগুলোকে বৃহত্তর জাতীয় নীতিমালার সাথে সমন্বয় করতে হলে তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ বিশ্লেষণের কোনো বিকল্প নেই। ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ জানান যে রাষ্ট্র সংস্কারে তরুণদের যুক্ত করার প্রক্রিয়াটি নিছক প্রতীকী প্রদর্শনে সীমাবদ্ধ রাখলে লক্ষ্য পূরণ হবে না। বরং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তরুণরা যেন বাস্তবিক প্রভাব ফেলতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সুযোগ তৈরি করতে হবে।
আলোচনায় প্রবীণদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সাথে তরুণদের সৃজনশীল উদ্দীপনার কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক নীতি প্রণয়ন স্তরে নারী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন আলোচকরা। এই আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যান্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট খাতের গবেষকেরা অংশ নেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন