সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
পণ্য কেনাকাটা না করে কেবল নগদ অর্থ উত্তোলনের কাজে বাংলা কিউআর ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক বা ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি জানান, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে নগদবিহীন বা ক্যাশলেস ব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে এবং প্রতিটি লেনদেনের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।
সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। ডিজিটাল এই পরিশোধ মাধ্যমের দ্রুত প্রসারের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয় ব্রিফিংয়ে। বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে সারা দেশের প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে পণ্যের দাম মেটাচ্ছেন।
গত জুন মাসেও যেখানে দৈনিক গড়ে প্রায় এক লাখ লেনদেনের মাধ্যমে ২৮ কোটি টাকার কেনাবেচা হতো, সেখানে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ লেনদেনে আর্থিক প্রবাহ পৌঁছেছে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকায়। মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা সাড়ে তিন গুণ এবং সামগ্রিক অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। লেনদেন আরও গতিশীল ও ঝামেলামুক্ত করতে বেশ কিছু নতুন নীতিগত সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে যেকোনো বাংলা কিউআর পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর ব্যাংক বা ওয়ালেট হিসাবে জমা হয়ে যাবে, যার ফলে ব্যবসায়ীদের অর্থ প্রাপ্তির দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে। এছাড়া এই মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেটে নেওয়া এক শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় মাশুল শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র লেনদেন উৎসাহিত করতে আর্থিক প্রণোদনার রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার থেকে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের মাধ্যমে মার্চেন্ট পয়েন্টে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে অর্থ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী সংস্থাকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে সরাসরি প্রণোদনা দেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর পাশাপাশি আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তিপর্যায়ে সরাসরি অর্থ স্থানান্তরের সুবিধা চালু করা হচ্ছে। নতুন এই সুবিধার আওতায় একজন সাধারণ গ্রাহক অন্য গ্রাহকের ব্যক্তিগত কিউআর কোড স্ক্যান করে কিংবা নিজস্ব অ্যাপে কোডের ছবি যুক্ত করেই যেকোনো অঙ্কের অর্থ পাঠিয়ে দিতে পারবেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন