অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
সারাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সর্বজনীন ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় নিয়ে আসতে আগামী নভেম্বর মাস থেকে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন বা পিটুপি সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন এই ধাপ কার্যকর হলে সাধারণ পেশাজীবী থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায়ের নাগরিকরাও নিজেদের ব্যক্তিগত কিউআর কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি অর্থ আদান-প্রদান করতে পারবেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা ইউআইইউ মিলনায়তনে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এ কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ওয়ান ব্যাংক পিএলসি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
গভর্নর জানান, দেশে বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের সার্বিক কার্যক্রম মোট চারটি ধাপে পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে এ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশনা জারি করা হয় এবং গত ১ জুলাই থেকে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপে প্ল্যাটফর্মটির কারিগরি কার্যক্ষমতা ও একই সময়ে বড় অঙ্কের লেনদেন নিষ্পত্তির সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।
দেশের জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ বা এনপিএসবি ব্যবস্থায় প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৩০০টি লেনদেন সফলভাবে নিষ্পত্তির সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কার্ড নেটওয়ার্ক মাস্টারকার্ডের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে প্রতি সেকেন্ডে এক হাজারটি পর্যন্ত লেনদেন পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে। প্রায় ১০০টি আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এই সমন্বিত কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার কাজ চলছে। বাধ্যতামূলক করার প্রাথমিক পর্যায়ে কার্যক্ষমতা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও মাত্র দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যেই সন্তোষজনক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
মোস্তাকুর রহমান উল্লেখ করেন, গত ১ অক্টোবর থেকে সারাদেশে বাংলা কিউআরের বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ানোর বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার এই সমন্বিত লেনদেনের মাশুল পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। দুই হাজার, পাঁচ হাজার, এক লাখ কিংবা দুই লাখ টাকা—লেনদেনের অঙ্ক যা-ই হোক না কেন, গ্রাহক বা ব্যবসায়ী কাউকে কোনো ধরনের বাড়তি মাশুল গুনতে হবে না।
বাস্তবায়নের চতুর্থ ধাপ হিসেবে আগামী নভেম্বর থেকে একজন ব্যক্তি সরাসরি অন্য ব্যক্তির কাছে নিজস্ব বাংলা কিউআর ব্যবহার করে মুহূর্তেই অর্থ পাঠাতে পারবেন।
গত কয়েক মাসের আর্থিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে গভর্নর জানান, গত জুনের প্রথম সপ্তাহে বাংলা কিউআরে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে তা চার গুণেরও বেশি বেড়ে দৈনিক প্রায় ১৮০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
তবে এই অগ্রগতিতেই আত্মতুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেন গভর্নর। তিনি জানান, পুরো অর্থনীতিকে ক্যাশলেস রূপ দিতে হলে এই ব্যবস্থায় দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ অন্তত তিন হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যেতে হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলা কিউআর ব্যবস্থাটি নজর কেড়েছে বলে জানান গভর্নর। বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে এই প্ল্যাটফর্মের কারিগরি মডেল সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সম্পূর্ণ মাশুলমুক্ত এই ডিজিটাল পরিশোধ কাঠামোর বিস্তার ঘটলে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও সুসংহত হবে এবং নগদ কাগুজে টাকার ওপর জাতীয় নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন