সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়া এবং দেশের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সৃষ্ট জ্বালানি সংকট কাটিয়ে জাতীয় সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন, ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জ্বালানি খাতের এই সামগ্রিক অগ্রগতি তুলে ধরেন তিনি। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও উপকূলে কারিগরি দুর্ঘটনার জোড়া ধাক্কায় সরবরাহ সময়সূচি ব্যাহত হয়েছিল। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ব্যাখ্যা করেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের প্রধান সরবরাহ ক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য অচল হয়ে পড়ায় বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান করতে হয়েছে।
এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় ব্যয় হয়। অন্যদিকে বিকল্প উৎস থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি কেনা সম্পন্ন হলেও দেশের উপকূলে থাকা ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটে (এফএসআরইউ) আকস্মিক অগ্নিকাণ্ড ঘটায় সংগৃহীত গ্যাস দ্রুত জাতীয় পাইপলাইনে খালাস করা সম্ভব হয়নি। সব বাধা অতিক্রম করে জ্বালানি আমদানির নিয়মিত লাইন পুরোপুরি সচল হয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, উদ্ভূত দুর্যোগ ও প্রযুক্তিগত জটিলতা কাটিয়ে বর্তমানে জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর নির্ধারিত পথ স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে এবং নিয়মিত চালান দেশে আসছে। বৈশ্বিক যুদ্ধের বিরূপ প্রভাবে এই ধরনের সাময়িক সরবরাহ সংকট বিশ্বের বহু উন্নত দেশেও দেখা গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জনগণের ম্যান্ডেট ও আস্থার প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ গভীর আস্থা রেখে সরকারকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। কিন্তু বৈশ্বিক জ্বালানি ঘাটতি ও অভ্যন্তরীণ দুর্ঘটনার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লেগেছে। বর্তমানে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এর সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিতে নিয়মিত সরবরাহের সময়সূচিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনা না ঘটলে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জনগণের দৈনন্দিন ভোগান্তি দূর করতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাড়তি অর্থ দিয়ে গ্যাস আমদানি করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, সরকার কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে এমন সংকটজনক পরিস্থিতি তৈরি করেনি। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা হয়েছে এবং উচ্চমূল্য পরিশোধ করে হলেও তরলীকৃত গ্যাস আনা হয়েছে। সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধানে প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগ গ্রহণ করায় দ্রুততম সময়ে এই সংকট উত্তরণ সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিটি কর্মকর্তা দলগতভাবে সমন্বিত দায়িত্ব পালন করেছেন। জনগণ যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ভোগান্তির মুখে না পড়ে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলেও জানান জ্বালানিমন্ত্রী।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন