বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
পুরুষের সতরের বিধান

পুরুষের শরীরের সতর ও ইসলামে ফরজ বিধান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:৪২ এএম

পুরুষের শরীরের সতর ও ইসলামে ফরজ বিধান

পোশাক মানুষের আত্মমর্যাদা, মানবিক শালীনতা এবং সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ পালনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ইসলামে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই লজ্জাস্থান আবৃত রাখা এবং সতর ঢেকে রাখা একটি অলঙ্ঘনীয় ফরজ বিধান হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা আ‍‍`রাফের ছাব্বিশ নম্বর আয়াতে পোশাককে মানুষের দেহের প্রকাশযোগ্য নয় এমন অংশ আবৃত করার উপায় ও শোভা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শরীয়ত সমর্থিত যৌক্তিক কারণ ব্যতীত অন্যের সামনে উলঙ্গ হওয়া কিংবা সতর অনাবৃত রাখা নির্লজ্জতার পরিচায়ক।

সমাজে পর্দা ও শালীনতার বিষয়ে অনেক সময় পুরুষদের মাঝে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। অনেকে ধারণা করেন পর্দা বিধান কেবল নারীদের জন্য প্রযোজ্য, অথচ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ দৃষ্টি অবনত রাখা এবং অঙ্গ সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রথমে পুরুষদের নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা আন-নূরের ত্রিশ নম্বর আয়াতে বিশ্বাসী পুরুষদের নিজেদের চোখ নামিয়ে রাখতে এবং লজ্জাস্থানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে। হানাফি ফিকহের প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন সাবালক পুরুষের জন্য নাভি থেকে শুরু করে হাঁটু পর্যন্ত অংশ আবৃত রাখা সর্বাবস্থায় ফরজে আইন।

পুরুষের উরু সতরের অংশ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। অনেকে মনে করেন শুধু গুপ্তাঙ্গ ঢেকে রাখাই যথেষ্ট, কিন্তু মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) উরুকেও সতরের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত একটি বিশুদ্ধ বিবরণ থেকে জানা যায়, আসহাবে সুফফার সদস্য জারহাদ (রা.)-এর উরু অনাবৃত দেখে আল্লাহর রাসুল তাকে সতর্ক করে জানান যে উরুও গোপন অঙ্গের অংশ। জামিউল মাসানিদ ও সুনানে দারাকুতনীতে বর্ণিত অপর হাদিসেও ঘোষণা করা হয়েছে যে, নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশই হলো পুরুষের সতর।

শরীয়তের এই নির্দেশনা অনুযায়ী এমন পোশাক পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ যার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে এই নির্ধারিত অংশ অনাবৃত হয়ে পড়ে। অমুসলিম বিভিন্ন সমাজেও একসময় পোশাকের এই শালীনতা রক্ষা করা হতো, যা সময়ের ব্যবধানে ক্ষুণ্ণ হলেও একজন মুসলমানের কাছে এর ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা অপরিবর্তিত থাকে। ফলে পুরুষের উচিত নিজের পরিধেয় বস্ত্রের মাধ্যমে এই সীমা রক্ষা করা এবং পরিবারের সদস্যদের এ বিষয়ে সতর্ক রাখা।