রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পরপর ৩ জুমা বাদ গেলে কি মুসলিম কাফের হয়ে যায়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৯, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

পরপর ৩ জুমা বাদ গেলে কি মুসলিম কাফের হয়ে যায়

ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন জুমাবারকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই বিশেষ দিনে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম মুসলিম পুরুষদের জন্য জুমার নামাজ আদায় করা ফরজ বা আবশ্যিক কর্তব্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মুখে প্রায়ই একটি কথা প্রচলিত রয়েছে যে পরপর তিনটি জুমার নামাজ যদি কোনো মুসলিম ছেড়ে দেয় তবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় বা কাফের হয়ে যায়। 

ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের মতে মূলত এমন গুরুতর পরিণতির কোনো সুনির্দিষ্ট দালিলিক প্রমাণ ইসলামে নেই।ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী শুধু পরপর তিন জুমা না পড়লেই কোনো ব্যক্তি সরাসরি কাফের হয়ে যায় না।তবে ইসলামি আলেমরা সতর্ক করে বলেছেন যে অবহেলা ও গাফিলতির কারণে একের পর এক জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত ভয়াবহ গুনাহের কাজ এবং এ বিষয়ে হাদিস শরিফে কঠিন সতর্কবার্তা এসেছে। জুমার দিনের বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনুল কারিমের সুরা জুমুআহর ৯ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। 

সেখানে বলা হয়েছে যে জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয় তখন যেন মুমিনরা বেচাকেনা ত্যাগ করে দ্রুত আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার নামাজ অবহেলা করে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। সুনানে তিরমিজির ৫০০ নম্বর এবং সুনানে ইবনে মাজাহর ১১২৫ নম্বর হাদিসে উল্লেখ আছে যে ব্যক্তি অবহেলা ও গাফিলতির কারণে পরপর তিন জুমা ছেড়ে দেয় আল্লাহ তাঁর অন্তরে মোহর মেরে দেন।

এর অর্থ হলো এমন ব্যক্তির হৃদয় বা অন্তর ধীরে ধীরে সত্য গ্রহণ থেকে দূরে সরে যেতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত হেদায়াত থেকে বঞ্চিত হওয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়। আবু ইয়ালার ২৭১২ নম্বর হাদিসের আরেক বর্ণনায় এসেছে যে ব্যক্তি কোনো ওজর ছাড়া পরপর তিন জুমা ছেড়ে দেয় সে মূলত ইসলামকে নিজের পেছনে ফেলে দেয়। তবে ইসলামি আইনবিদরা স্পষ্ট করেছেন যে এই কথার প্রকৃত অর্থ এটি নয় যে তিন জুমা বাদ গেলেই সঙ্গে সঙ্গে কেউ কাফের হয়ে যাবে। মূলত জুমার নামাজের প্রতি চরম অবহেলার ভয়াবহতা এবং এর গুনাহের গভীরতা বোঝাতেই হাদিসে এই ধরণের কঠোর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এমন বা পরিস্থিতিতে একজন মুসলিমের প্রধান कर्तव्य বা কর্তব্য হলো নিজের ভুল বুঝতে পেরে দ্রুত আল্লাহর দরবারে তওবা করা এবং নামাজের প্রতি পূর্ণ যত্নবান হওয়া।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী অনুযায়ী মুমিনের জন্য জুমার দিনটি হলো একটি  ঈদের দিন। সহিহ মুসলিমের ২৩৩ নম্বর হাদিসের ফজিলত অনুযায়ী যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোভাবে গোসল ও পরিচ্ছন্ন হয়ে সুন্দর পোশাক পরিধান করে মসজিদে যায় এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে তাঁর এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সব ছোট গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। তবে ইসলামি সুনির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী সমাজের কিছু মানুষের ওপর জুমার নামাজ ফরজ বা বাধ্যতামূলক নয়। এই তালিকায় রয়েছেন গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি, মুসাফির বা ভ্রমণকারী, নারী, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু এবং দাস। প্রত্যেক মুসলিমের উচিত নিজের ধর্মীয় দায়িত্বের প্রতি একনিষ্ঠ থেকে নিয়মিত আল্লাহর ইবাদতে পুরোপুরি মনোযোগী হওয়া।