জুলাই ১, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড চলাকালীন নারীদের জিকির-আসকার করা, তাসবিহ পাঠ এবং দ্বীনি বইপত্র পড়ার ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়তে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফুকাহায়ে কেরাম বা ইসলামি আইনবিদদের মতে, এই অবস্থায় নারীরা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও সরাসরি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকলেও অন্যান্য ইবাদত স্বাভাবিকভাবে পালন করতে পারবেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, নারীর এই স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার সর্বনিম্ন সময় তিন দিন এবং সর্বোচ্চ সময় দশ দিন পর্যন্ত হতে পারে।এই সময়ে নারীদের জন্য নামাজ আদায় ও রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়।
ধর্মীয় বা দ্বীনি বইপুস্তক পড়ার ক্ষেত্রে এই দিনগুলোতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এমনকি যেসব বইয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত রয়েছে, সেগুলোও স্পর্শ করা ও পাঠ করা জায়েজ বলে গণ্য হয়। তবে কোরআনের আয়াত সরাসরি মুখ ফুটে উচ্চারণ করে তিলাওয়াত করা বা মূল কিতাব স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ প্রসঙ্গে হাদিসের বর্ণনায় পাওয়া যায়, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋতুস্রাব অবস্থায় নারী এবং যাদের ওপর গোসল ফরজ তাদের কোরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করেছেন, যা তিরমিজি শরীফের ১৩১ নম্বর হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। তবে দোয়ার উদ্দেশ্যে পবিত্র কোরআনের অর্থবহ আয়াত বা সুরা, যেমন আয়াতুল কুরসি, সুরা নাস ও সুরা ফালাক মনে মনে বা দোয়ার নিয়তে পড়া যাবে।
এই অবস্থায় জিকির করা ও তাসবিহ পাঠ করা সম্পূর্ণ বৈধ ও প্রশংসনীয় ইবাদত। ইসলামি গবেষকদের মতে, গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি বা ঋতুস্রাব অবস্থায় থাকা নারীরা আল্লাহর জিকির করতে পারবেন এবং যেকোনো ভালো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে পারবেন। এছাড়া এই সময়ে অন্যের মুখ থেকে কোরআন তিলাওয়াত শোনা, উচ্চারণ না করে কোরআনের লেখার ওপর কেবল নজর বুলিয়ে যাওয়া এবং মনে মনে তা আবৃত্তি করার মধ্যেও কোনো বাধা নেই। নাসায়ি শরীফের ৩৮১ নম্বর হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেও তাঁর সহধর্মিণীদের ক্ষেত্রে এমন স্বাভাবিক ধর্মীয় ও মানসিক ইবাদত চর্চার প্রামাণ্য রূপ দেখা যায়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন