সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১০:১৯ এএম
ইসলামপূর্ব অন্ধকার যুগে সমাজে এতিম ও বিধবাদের বেঁচে থাকার কোনো মৌলিক সামাজিক ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত ছিল না। পরিবারের অভিভাবক বা পিতা মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ওপর শুরু হতো অবিচার ও নিপীড়ন। পিতৃমাতৃহীন অসহায় শিশুদের রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দখল করতে চলত নানামুখী ষড়যন্ত্র। একইভাবে স্বামীর মৃত্যুর পর নারীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে কোনো উত্তরাধিকার বা আইনি অধিকার স্বীকার করা হতো না।
ইসলামের আবির্ভাব এই বর্বর সামাজিক কাঠামোর অবসান ঘটিয়ে এতিমের অধিকার ও বিধবার সামাজিক মর্যাদা সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এতিমদের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরাসরি নির্দেশ এসেছে পবিত্র কোরআনে। সুরা নিসার দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, এতিমদের প্রাপ্য সম্পদ তাদের পুরোপুরি বুঝিয়ে দাও, খারাপ মালের সাথে ভালো মাল অদলবদল করো না এবং তাদের সম্পদ নিজেদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, কারণ এটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এই সুস্পষ্ট নির্দেশনার আলোকে এতিমের ধনসম্পদ আত্মসাৎ বা জোরপূর্বক গ্রাস করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
নিজের স্বার্থের বাইরে কেবল এতিমের কল্যাণের উদ্দেশ্যে যৌথ ব্যবসার মাধ্যমে লাভ আনুপাতিক হারে তাদের প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেসব এতিম ও বিধবার পরিবারের উপার্জনক্ষম কেউ নেই, তাদের পাশে ব্যক্তিগত অনুদান, জাকাত ও ফিতরার মাধ্যমে দাঁড়ানোকে বড় সওয়াবের মাধ্যম করা হয়েছে। হাদিসের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় অসহায় নারী ও এতিমদের পাশে দাঁড়ানোর মর্যাদাকে অত্যন্ত উচ্চাসনে স্থান দেওয়া হয়েছে।
বুখারি ও মুসলিম শরিফের এক বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন, বিধবা ও অসহায়দের তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর সমতুল্য সওয়াব অর্জন করে। পাশাপাশি এমন ব্যক্তি অলসতা ছাড়া সারারাত নফল নামাজ আদায়কারী এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে রোজা পালনকারীর সমান পুণ্য লাভ করেন। এতিমের লালনপালনকারীর মর্যাদার ব্যাপারে তিনি হাতের শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুল পাশাপাশি রেখে দেখিয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন তিনি ও এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এভাবে একসাথে অবস্থান করবেন।
মুসনাদে আহমদ ও তিরমিজি শরিফের অপর এক হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো এতিমের মাথায় স্নেহের হাত রাখলে যতগুলো চুলের ওপর দিয়ে হাত যাবে, প্রতিটির বিনিময়ে পুণ্য লেখা হয়। এছাড়া ইবনে মাজাহর বর্ণনায় প্রিয় নবী উল্লেখ করেছেন, মুসলমানদের মধ্যে সেই ঘরটিই পৃথিবীর সর্বোত্তম আবাস, যেখানে কোনো এতিম থাকে এবং তার সাথে মানবিক ও কল্যাণমূলক আচরণ করা হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন