সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১১:২৭ এএম
জুমার দিন বা শুক্রবারে মৃত্যুর বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতের কথা হাদিসে উল্লেখিত থাকলেও নির্দিষ্ট কোন আমল করলে শুক্রবারেই মৃত্যু ঘটবে, ইসলামি শরিয়তে এমন কোনো বিধান বা আমলের কথা বলা হয়নি। মানুষের হায়াত, মউত এবং মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময় সম্পূর্ণভাবে মহান আল্লাহর একক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত। পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিই জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কোনো প্রাণীই জানে না কোন স্থানে বা কোন মুহূর্তে তার মৃত্যু হবে।
তবে জুমার দিনে বা জুমার রাতে মৃত্যুবরণকারী মুমিনের জন্য বিশেষ মর্যাদার কথা বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন, যে মুসলমান শুক্রবার দিনে কিংবা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের ফিতনা বা আজাব থেকে নিরাপদ রাখেন। তিরমিজি ও মুসনাদে আহমদে এই বিবরণ এসেছে।
ইসলামি আইনজ্ঞ ও আলেমদের মতে, কোনো ব্যক্তির পক্ষে নিজের মৃত্যুর দিন নিজে নির্ধারণ করা অসম্ভব। তাই বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট দিনে মৃত্যুর জন্য চেষ্টা বা দোয়া করার চেয়ে সদা সৎ পথে চলা এবং নিয়মিত নেক আমলের মধ্যে থাকা ইসলামের মূল শিক্ষা।
জুমার দিনের নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ আমলের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে জুমার রাতে ও দিনে অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা, সূরা আল-কাহাফ তিলাওয়াত করা, গোসল করে পরিষ্কার পোশাক পরে দ্রুত মসজিদে গিয়ে খুতবা শোনা এবং আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত বিশেষ মুহূর্তে আল্লাহর কাছে কল্যাণের প্রার্থনা করা। ইসলামের নীতি হলো মৃত্যুর নির্দিষ্ট দিন অন্বেষণ না করে যেকোনো মুহূর্তে মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থাকা এবং ঈমানের সাথে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের প্রার্থনা করা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন