সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১১:১৩ এএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত পাঁচজন শিক্ষককে নিষিদ্ধ চরমপন্থা দল সর্বহারা পরিচয়ে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেছেন ভুক্তভোগী এক শিক্ষক। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে। হুমকির মুখে পড়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক গৌর চন্দ্র পাল, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস এবং নাট্যকলা বিভাগের দুই অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন ও কৌশিক সরকার।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন জানান, তার মুঠোফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে কারাগারে থাকা দলীয় কর্মীদের জামিন খরচের কথা বলে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, প্রথমবার ব্যস্ততার কারণে কথা বলতে না পারলেও দুই ঘণ্টা পর পুনরায় কল এলে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। এ সময় অপরপ্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে সিরাজ শিকদারের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে জানতে চান তিনি কত টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।
ঘটনার পরপরই নিজের নিরাপত্তা চেয়ে মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন এই শিক্ষক। অধ্যাপক শাহরিয়ার আরও জানান, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করেন। তখন প্রক্টর তাকে জানান যে কয়েক দিন পরপরই এমন প্রতারণামূলক ফোন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে আসছে। পরবর্তীতে পুলিশের প্রাথমিক প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানে জানা যায় যে সন্দেহভাজন নম্বরটির সংযোগ মাদারীপুর এলাকা থেকে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং সিমকার্ডটি মুফতি রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রে নিবন্ধিত।
হুমকির শিকার আরেক শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ফোন করে সর্বহারা পরিচয় দেওয়ার সাথে সাথেই তিনি আর কথা না বাড়িয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তিনি জানতে পারেন যে একই ধরনের উড়ো হুমকি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একাধিক সহকর্মীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরজুন জানান, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুতই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন