অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে শহীদ ওসমান হাদির নাম সরিয়ে পুরোনো নাম পুনর্বহালের কাজ শুরু করেছে হল প্রশাসন। বুধবার দুপুর থেকে ফটকের নামফলক থেকে `শহীদ ওসমান হাদি হল` লেখাটি মুছে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সেখানে পুনরায় `শেখ মুজিবুর রহমান হল` নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃস্থাপন করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্তি দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হলের জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জবান আলী জানান যে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মৌখিকভাবে হলের নাম সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ফলে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বিভ্রান্তি যেন তৈরি না হয়, সেজন্যই আগের নামটি পুনরায় লেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ফটকের নামফলকের পুরোনো লেখাটি তুলে ফেলে নতুন করে নাম লেখার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা।
এর আগে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হলের নামফলক পরিবর্তন করে হাদির নাম লিখে দেয়। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদের পক্ষ থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি স্মারকলিপি উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হয়। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে মারা যান।
হাদির মৃত্যুর পর চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি সিন্ডিকেট সভায় শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সুপারিশের অংশ হিসেবে এই হলটির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবও আসে। তবে গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত সিনেট অধিবেশনে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। অধিবেশনে অধ্যাপক লুৎফর রহমান ও অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণের ওপর জোর দেন এবং সদস্য ফজলুল হক মিলন হলটির নাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে করার পাল্টা প্রস্তাব দেন।
দীর্ঘ বিতর্কের পর উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রস্তাবটি আবারও সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন, যার প্রতিবাদে ডাকসুর পাঁচজন সিনেট প্রতিনিধি অধিবেশন থেকে তাৎক্ষণিক ওয়াকআউট করেছিলেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আবাসিক হলটির নাম শেখ মুজিবুর রহমান হল হিসেবেই বহাল রয়েছে। পুরো বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন