অক্টোবর ১, ২০২৬, ১১:১৩ এএম
প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন যে, বয়স্ক ভাতার পরিধি ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার ঘটিয়ে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও বেশি কার্যকর ও সমন্বিত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে সরকার প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু ক্রমাগত বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, মানুষের এই দীর্ঘায়ু যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে, তেমনি একটি সম্মানজনক জীবনযাত্রার জন্য স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহযোগিতার কাঠামোকে যুগোপযোগী করার তাগিদ তৈরি করেছে। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত নীতিমালার আলোকে সমাজের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রবীণদের সুরক্ষায় বিভিন্ন সময়োপযোগী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
প্রবীণদের অবহেলা না করে তাদের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আনার জন্য প্রশাসন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। পরিবার ও সমাজ গঠনের মূল স্তম্ভ হিসেবে প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবীণ প্রজন্মের ত্যাগ, মেধা ও দূরদর্শিতার শক্ত ভিত্তির ওপর আজকের বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে। তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি যত্নবান দৃষ্টিভঙ্গি রাখা নাগরিক দায়িত্ব।
পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি এবং পারস্পরিক দায়িত্বশীলতার চর্চা চালু রাখা অপরিহার্য। জীবনচক্রের প্রতিটি ধাপে সুরক্ষার অংশ হিসেবে বয়স্কদের সক্রিয় সামাজিক অংশগ্রহণ ও মানসিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও সুসংহত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি চিরায়ত ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ থাকলে প্রবীণদের সামগ্রিক অধিকার আরও বেশি সুরক্ষিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাণীর সমাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের সকল প্রবীণ নাগরিকের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তরুণ কিংবা প্রবীণ—প্রতিটি নাগরিক যেন তাদের নিজস্ব প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রে মর্যাদার সাথে বাস করতে পারেন, সেটাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন