শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,
ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ, আটক ৫ শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ, আটক ৫ শতাধিক

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানী দিল্লিতে বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-ছাত্র সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক প্রকৃত নাগরিকের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর সম্পূর্ণ দায় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। এই দাবিতে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে আম আদমি পার্টির নেত্রী অতশী, সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা এবং ভারতীয় রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিং সরাসরি অংশ নেন। এছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া এবং ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়াসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে একাত্মতা জানান।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সমাবেশ আয়োজনের প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকা এবং সার্বিক নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণেই কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের এই দাবির সরাসরি বিরোধিতা করে আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ জানান, এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের অনুমতির জন্য প্রায় এক সপ্তাহ আগেই আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে নর্থ অ্যাভিনিউ এলাকাতেই রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিংকে আটকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সৌরভ ভরদ্বাজ ও সঞ্জীব ঝাকেও পুলিশ আটক করে। এর পাশাপাশি অশোক রোড এলাকায় বিক্ষোভকারী ছাত্র সংগঠনগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হয়। পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার প্রায় ৭০০ সদস্য যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালালে পুলিশ তাদের আটকে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে হেফাজতে নেয়।

বিক্ষোভকে ঘিরে সমগ্র দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও তার সংলগ্ন এলাকায় কঠোর পুলিশি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং যন্তর মন্তর মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে যাত্রী চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিক্ষোভস্থলসংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস