অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
রাজধানীর খুচরা বাজারে মাল্টার দাম অস্বাভাবিক বেড়ে প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় ঠেকেছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আমদানি করা এই ফলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতা উভয় পক্ষই চরম বিপাকে পড়েছেন। ফলের দোকানে বেচাকেনা নেমেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়। খুচরা ফল বিক্রেতারা জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের মাল্টা সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এর আগে ১৫ থেকে ২০ দিন বা এক মাস পূর্বেও এই ফল ২৬০ থেকে ২৭০ কিংবা সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হতো।
এখন সামান্য কয়েক দিনের ব্যবধানে পাইকারি মোকামে অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় খুচরা বাজারে ভালো মানের মাল্টা ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা এবং সাধারণ মানের মাল্টা ৪৫০ থেকে ৪৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারিতে কার্টনে দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। রাজধানীর প্রধান ফলের পাইকারি আড়ত বাদামতলীর চিত্র তুলে ধরে বিক্রেতারা জানান, সচরাচর যে মাল্টার কার্টন তিন হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ৩০০ কিংবা সর্বোচ্চ তিন হাজার ৫০০ টাকায় কেনা যেত, তা হঠাৎ এক লাফে পাঁচ হাজার ২০০ টাকায় ওঠে।
এরপর ধারাবাহিকভাবে দাম বেড়ে পর্যায়ক্রমে পাঁচ হাজার ৮০০, ছয় হাজার ২০০, ছয় হাজার ৫০০ এবং বর্তমানে সাত হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। আড়তে কিনতে গিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত দামের হেরফের দেখছেন। সকালে ঢুকে যে কার্টন ছয় হাজার ৮০০ টাকা চাওয়া হয়, কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরির পরই তা একদামে সাত হাজার টাকা হাঁকা হচ্ছে। ফলে খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতি কেজি মাল্টা পাইকারি থেকেই কিনতে হচ্ছে প্রায় ৪৮০ টাকায়।
এর সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা লাভে ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার কর কমানোর কথা বললেও বাজারে তার কোনো সুফল নেই, বরং উল্টো দাম বাড়ছে। পাইকারিতে পর্যাপ্ত আমদানি ও সরবরাহ মজুত থাকা সত্ত্বেও বড় আমদানিকারকদের সিন্ডিকেট ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা মাল্টা ও কমলার ওপর এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। অতিরিক্ত দামের কারণে সাধারণ ক্রেতারা ফল কেনা কমিয়ে দেওয়ায় খুচরা দোকানদাররা সারা দিন বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন