অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
অনুমোদিত সীমার বাইরে গোপন গুদামে শুল্কমুক্ত মদ মজুত রাখার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছে সরকারের যৌথ তদন্ত দল। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন একের যৌথ অভিযানে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত একটানা অভিযান পরিচালনা করে ডিপ্লোমেটিক ওয়্যারহাউসটির কার্যক্রমে গুরুতর অসংগতি শনাক্ত করা হয়।
অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত দুটি গোপন গুদামে পণ্য রাখা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির নথিভুক্ত ও ঘোষিত অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের সংখ্যা ছিল মাত্র দুটি। তবে সরেজমিন অভিযানে দেখা যায় তারা মোট চারটি গুদামে পণ্য মজুত করে রেখেছিল। বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত শুল্কমুক্ত পণ্য অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলা কিংবা খোলাবাজারে বিক্রির ঝুঁকি রোধ এবং সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতের স্বার্থে অনুমোদিত দুটিসহ চারটি ওয়্যারহাউসই তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, টস বন্ড মূলত বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের সুবিধার্থে শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ দিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত মদ খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এর পাশাপাশি রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল এবং আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট কানাডা থেকে নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের আর্থিক লেনদেনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করেছে। সেই নথিপত্রে নুর ইসলাম, তাঁর স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলামের কানাডার নাগরিকত্ব এবং অন্তত চারটি বিদেশি কোম্পানির মালিকানার প্রমাণ মিলেছে, যা দেশের আয়কর নথিতে সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল। ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাঁদের ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে আনার তথ্যও পাওয়া গেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, এই অভিযান সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল ও আয়কর গোয়েন্দার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নুর ইসলামের ব্যবসা ও কর ফাঁকির বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা অনেক আগে থেকেই অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিল। তবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির লাইভে এসে রাজনৈতিক মহলের চাঁদাবাজিকে দায়ী করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য দেন। এরপর থেকেই ওই পরিবারের ওপর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নজরদারি ও সার্বিক আইনি প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি পায়।
এর আগে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ এলাকায় হামলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এক ব্যক্তির দায়ের করা জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ইতোমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই গত বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, যার পরদিনই তাঁর শ্বশুরের প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনহীন গুদামে যৌথ বাহিনীর এই বৃহৎ অভিযান পরিচালিত হলো বলে দিনাজপুর টিভি ডট কম-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন