সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
অনলাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ভাড়া নেওয়া স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন নিউগিনি প্রপার্টিজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন ভূঁইয়া ওরফে আরজু। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ছিল না, বরং জমির মালিকানা বিরোধের জেরেই এই সহিংসতা ঘটে।
সম্প্রতি নাজিমউদ্দিনের মালিকানাধীন প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়ে স্টুডিওটি চালু করেছিলেন সালমান মুক্তাদির। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিউগিনি প্রপার্টিজের সীমানায় নাজিমউদ্দিন তিনটি নতুন প্রবেশদ্বার নির্মাণ করলে আশপাশের অন্য জমির মালিকদের চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জেরে কয়েকজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা লোকজন নিয়ে সেই গেট অপসারণ করতে গেলে ভুলবশত সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর অংশে ভাঙচুর চালানো হয়।
নাজিমউদ্দিনের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায়। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যমতে, তার জন্ম ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে। ২০১০ সালের দিকে ঢাকায় এসে রামপুরার একটি মাদরাসায় ভর্তি হন তিনি। ওই সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ভাসানটেক এলাকায় ভাঙারি ও থাই অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবসা শুরু করেন। সেখান থেকে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের সাথে যোগাযোগ তৈরি করে আবাসন খাতে প্রবেশ করেন এবং নিউগিনি প্রপার্টিজ গড়ে তোলেন।অভিযোগ রয়েছে, ক্যান্টনমেন্ট থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি আব্বাসের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি জমি দখলের তৎপরতা চালান।
একপর্যায়ে তিনি নিজেকে গোসান আজাদ ইউনিট আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওই ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান যে দলীয় কমিটিতে তার কোনো পদবি নেই।
রাজধানীর জোয়ার সাহারা এলাকায় প্রায় ১৪ বিঘা জমি জবরদখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যার মধ্যে সাবেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের জমিও রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। মানিকদীতে রাজউকের অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণের সময় অভিযানে গেলে সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগে ইমারত পরিদর্শক শেখ আতিফ হোসেন ইমান থানায় মামলা দায়ের করেন।
কয়েক বছরের ব্যবধানে তার বিপুল বিত্তবৈভবের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। জোয়ার সাহারা ও বাউনিয়ায় জমি, মিরপুর ডিওএইচএসে ফ্ল্যাট ছাড়াও দুবাইয়ে সোনার দোকান এবং মালয়েশিয়ায় দোকান ও তেল পাম্পে তার বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে প্রায় দুই ডজন মামলার তথ্য মিললেও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহিদুল ইসলাম জানান, কিছু ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে এসে ভাঙচুর চালালে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তিনি উল্লেখ করেন, জমি নিয়ে বিবদমান পক্ষের বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন