শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,
বিএনপির শৃঙ্খলা রক্ষা

বিতর্কিত নেতাকর্মীদের তালিকা করছে বিএনপি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

বিতর্কিত নেতাকর্মীদের তালিকা করছে বিএনপি

দখলদারি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। অপরাধের ক্ষেত্রে পদ-পদবি বা দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করার নীতিতে অনড় অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিতর্কিত নেতাকর্মীদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে দলটি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে যৌথভাবে সারা দেশের দখল ও অনিয়মে অভিযুক্তদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। 

বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করার পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন দলীয় প্রধান। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন শেষে গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে ঘটনার বিস্তারিত জেনে তিন দিনের মাথায় এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেন তারেক রহমান।

একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। দলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারদলীয় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতার কর্মকাণ্ড বর্তমানে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও কোন্দলের অভিযোগে অন্তত চারজন প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যেকোনো শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও পদচ্যুতি ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানান, উচ্চাভিলাষী ও শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে কঠোর হস্তে দমন করার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় চেয়ারম্যান। একই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, অপরাধী যে-ই হোক সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একজন মন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য জানান, জাতিসংঘ সফরে সরকারপ্রধানের আন্তর্জাতিক প্রশংসা ঢাকার কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই কঠোর পদক্ষেপ চলমান থাকবে।

বিএনপির দলীয় দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে মূল দল ও সহযোগী সংগঠনের সহস্রাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার, পদ স্থগিত, অব্যাহতি ও কারণ দর্শানোর নোটিশসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মধ্যবর্তী সময়েও প্রায় সাড়ে চার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যার মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি নেতাকে দল থেকে সরাসরি বহিষ্কার করা হয়েছিল।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল সংগঠন পুনর্গঠন ও বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে হাইকমান্ড। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতার প্রভাব কাউকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না। তিনি উদাহরণ টেনে জানান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় মেজর অবসরপ্রাপ্ত গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের স্কুলশিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সম্মানের সঙ্গে পুলিশ বাসায় পৌঁছে দিয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করবে না বলে তিনি নিশ্চিত করেন।