শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,
মহাকাশ সামরিক প্রযুক্তি

স্টারলিংকের বিকল্প হিসেবে রাসভেত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক আনছে মস্কো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

স্টারলিংকের বিকল্প হিসেবে রাসভেত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক আনছে মস্কো

ছবি: সংগৃহীত

রণাঙ্গনে প্রতিপক্ষকে চোখে না দেখলেও হাজার ফুট উঁচু আকাশ থেকে যান উড়িয়ে শত্রুঘাঁটি শনাক্ত করার জটিল প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত হয় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। যুদ্ধের ময়দান থেকে শত মাইল দূরের কোনো সুরক্ষিত বাঙ্কারে বসেই দূরনিয়ন্ত্রিত বিমান পরিচালনা করেন সেনা পাইলট। শত্রুসেনার রেডিও বা রাডার জ্যামিং ব্যর্থ করে দুর্গম পাহাড় কিংবা ধ্বংসস্তূপের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানার কাজটি সম্ভব করছে মহাকাশের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগ।

যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগের সেই সুবিধা আরও সংহত করতে এবার নিজস্ব বিকল্প প্রযুক্তির পথ বেছে নিয়েছে রাশিয়া।

মস্কো তাদের এই বিশেষ সামরিক স্যাটেলাইট ব্যবস্থার নাম দিয়েছে রাসভেত। ইউক্রেন যুদ্ধে ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের তৈরি স্টারলিংক নেটওয়ার্কের কৌশলগত গুরুত্ব কিয়েভের সামরিক তৎপরতাকে দৃশ্যমান সুবিধা দিয়েছে। পৃথিবীর খুব কাছাকাছি নিম্ন কক্ষপথে হাজারো ক্ষুদ্র উপগ্রহ মোতায়েন করে উচ্চগতির ও নির্ভরযোগ্য সংযোগ নিশ্চিত করেছে তারা। ফলে অনেক দূর থেকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আক্রমণকারী ড্রোন বহর পরিচালনা করতে পারছে ইউক্রেনীয় সেনারা।

মস্কোও শুরুতে অনানুষ্ঠানিক পথে স্টারলিংক ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল।

তবে মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা স্পেসএক্স রাশিয়ার সেই অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড হাতছাড়া হয়। সামরিক যোগাযোগের সেই মারাত্মক সংকট কাটিয়ে উঠতেই বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবে রাসভেতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ক্রেমলিন।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ক্ষেত্রেও কিছু আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ আরোপের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এই উদ্যোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অন্তত ৯০০টি রাসভেত স্যাটেলাইট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কক্ষপথে রাশিয়ার মাত্র ৩১টি উপগ্রহ সক্রিয় রয়েছে। এগুলো সম্মুখসারির সেনাদের যোগাযোগ সুবিধা দিলেও প্রতিদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টা সক্রিয় থাকে। এই শূন্যতা দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে আগামী বছরের মধ্যে স্যাটেলাইটের সংখ্যা ২৯২টিতে উন্নীত করতে চায় মস্কো।

স্টারলিংকের বহরের তুলনায় সংখ্যাটি সীমিত হলেও রণাঙ্গনে এটি রুশ কমান্ডের জন্য বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দেবে। স্যাটেলাইট বৃদ্ধি পেলে যুদ্ধক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

তবে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে এখনো বিস্তর ফারাক রয়ে গেছে। মহাকাশ পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট কক্ষপথে উপগ্রহগুলো সফলভাবে পৌঁছানো নিয়ে রুশ মহাকাশ সংস্থাকে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ফলে আগামী ২০২৭ সালের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ঠিকমতো পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে নানা মহলে সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী দিনের সামরিক লড়াইয়ে কেবল সাঁজাওয়া ট্যাংক কিংবা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং মহাকাশের কক্ষপথে ঘুরতে থাকা ক্ষুদ্র কৃত্রিম উপগ্রহই আধুনিক যুদ্ধের ভবিষ্যৎ জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে।