শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,
ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা

টাইফুন চাম্পির আঘাতে তাইওয়ানে স্কুল ও অফিস বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

টাইফুন চাম্পির আঘাতে তাইওয়ানে স্কুল ও অফিস বন্ধ

প্রবল শক্তিশালী টাইফুন চাম্পির কারণে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তাইওয়ান ও জাপান। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তাইওয়ানজুড়ে স্কুল ও কার্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশ মিলিয়ে বাতিল করা হয়েছে এক হাজারটির বেশি ফ্লাইট। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ঝড়ের অগ্রভাগে ইতোমধ্যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

তাইওয়ানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, মূল দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রবালদ্বীপ লিউচিউতে উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে অন্তত ৯৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই তীব্র বাতাসে পড়ে গিয়ে কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। দুর্যোগপীড়িত এলাকা থেকে এক হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তাইওয়ানের ২২টি কাউন্টি ও শহরের প্রায় সবকটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দাপ্তরিক কাজ স্থগিত রাখা হয়। তবে মূল ভূখণ্ডের পশ্চিমে অবস্থিত কিনমেন কাউন্টিতে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ ২৬২টি অভ্যন্তরীণ এবং ৬৬০টির বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রেল ও ফেরি চলাচল বন্ধের পাশাপাশি মহাসড়কেও যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শেয়ারবাজার তাইওয়ান স্টক এক্সচেঞ্জও।

রাজধানী তাইপেতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে বাতাসের তীব্রতা বিউফোর্ট স্কেলের সর্বোচ্চ ১২ মাত্রার ঝাপটায় পৌঁছানোর শঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে শনিবার পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৯০ সেন্টিমিটার বা ৩৫ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ঝড়ের প্রভাব জাপানের দক্ষিণাঞ্চলেও আঘাত হেনেছে।

জাপানি আকাশসেবা সংস্থাগুলোর ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের মিয়াকো ও ইশিগাকি বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। ওকিনাওয়া নাহা, ওখোৎস্ক মনবেতসু, তসুশিমা, মিয়াজাকি ও কাগোশিমা বিমানবন্দরেও বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জাপান এয়ারলাইনসও তাইওয়ানগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ সংস্থার হিসাবে, ওকিনাওয়া অঞ্চলে প্রায় আট হাজার ৪০০ গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

আবহাওয়া বিশ্লেষণে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে ফিলিপাইন সাগরে থাকা অবস্থায় চাম্পি ক্যাটাগরি ৫ মাত্রার সুপার টাইফুনে রূপ নিয়েছিল, যার বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৯৮ কিলোমিটার। পরে গতি কিছুটা কমে শুক্রবার দুপুরের দিকে কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটারে নেমে আসে।

ঝড়টি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূল ঘেঁষে ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে অগ্রসর হবে। এরপর এটি চীনের পূর্ব উপকূল স্পর্শ করে উত্তর-পূর্ব দিকে ঘুরে জাপানের মূল ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চীন তাদের চার স্তরের সতর্কতার মধ্যে সর্বনিম্ন ‍‍`ব্লু‍‍` সতর্কতা জারি করেছে।