শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৮ ও ধসে পড়েছে বহু ঘরবাড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৯:৫২ এএম

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৮ ও ধসে পড়েছে বহু ঘরবাড়ি

ছবি: সংগৃহীত

চীনের স্বায়ত্তশাসিত তিব্বত অঞ্চলে আঘাত হানা সাত মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন। তাদের মধ্যে ১১ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় এই তীব্র কম্পনে ৩৩৯টি বসতবাড়ি ধসে পড়েছে কিংবা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে পার্বত্য অঞ্চলটিতে এই কম্পন সৃষ্টি হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের নাগকু শহর থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিকের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে এই উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার।

ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনি শুরু হতেই বিভিন্ন জনবসতি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষ দ্রুত খোলা আকাশের নিচে নেমে আসেন। রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে বাইরে ছুটে যান। সুপারমার্কেটের তাক থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে যায়।

দুর্যোগের পরপরই সংশ্লিষ্ট পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে জরুরি সেবা বিভাগ। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৩৩৯টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দ্রুত উদ্ধারে ঘটনাস্থলে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তিব্বতের গ্রামীণ জনপদ তিংরি কাউন্টিতে এক মারাত্মক ভূমিকম্পের ঘটনায় অন্তত ১২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

সাম্প্রতিক এই বিপর্যয়ের কয়েক সপ্তাহ আগেই তিব্বত ও নেপাল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এক ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। গত আগস্ট মাসের ওই পাহাড়ি ঢলে নদী উপচে পড়ে পানি নেপালের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লে বহু ভবন ও বসতি তলিয়ে গিয়েছিল।

এদিকে তিব্বতের পাশাপাশি চীনে পাঁচ দশমিক দুই মাত্রার আরও একটি মৃদু ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভারতের জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র এনসিএস জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের পাঙ্গিন থেকে প্রায় ৫০৫ কিলোমিটার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম এলাকায় ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে এই দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল।