শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনে না এসে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে শাহে আলম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনে না এসে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে শাহে আলম

জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও উপস্থিত না হওয়ায় বিরোধী দলের নেতাদের কড়া সমালোচনা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিরোধী দলের নেতারা এ বিষয়ে স্পষ্ট ধোঁকাবাজি করেছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যারা জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সারাক্ষণ রাজনীতি এবং উচ্চবাচ্য করে থাকেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড পাওয়ার পরও তারা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। উল্টো নিজেদের অনুপস্থিতিকে জায়েজ করতে ভিত্তিহীন ও খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।

তিনি বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে সরকারের উদ্যোগে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে সমমনা, সহযোগী ও জোটের সব রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। শুধু কার্ড পাঠানোই শেষ নয়, সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোনেও সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছিলেন।

শহীদ পরিবারের অংশগ্রহণ ছিল এই আয়োজনের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, শহীদ মীর মুগ্ধ, আবু সাঈদ ও আনাসের পিতা এবং আরেকজন শহীদের মাতাসহ মোট চারটি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সরাসরি উপস্থিতিতে স্মৃতিস্তম্ভ ও দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন রূপ পাওয়া ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। এই স্মৃতিস্তম্ভে গেজেটভুক্ত ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা রয়েছে।

আমন্ত্রণপত্রে নির্দিষ্ট নেতাদের নাম না থাকার প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যের কড়া জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি স্পষ্ট করেন যে আমন্ত্রণপত্রে নাম না থাকাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে অনুষ্ঠানে না আসার যুক্তিটি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নেতা সাইফুল হক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নামও মূল আমন্ত্রণপত্রে ছিল না। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের সবাইকে নিজ উদ্যোগে মূল মঞ্চে ডেকে নিয়েছিলেন। বিরোধী দলের দায়িত্বশীল নেতারা আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সেখানে এলে তাদের প্রতিনিধিদেরও প্রধানমন্ত্রী একইভাবে সম্মান জানিয়ে মঞ্চে স্থান দিতেন।

জামায়াত নেতার অপর এক বক্তব্যের জবাবে মীর শাহে আলম দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বর্তমান আমলেই বিরোধী দল সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। অতীতে তাদের বসার জায়গাটুকু পর্যন্ত দেওয়া হয়নি, অথচ এখন তারা নির্বিঘ্নে সব ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা পাচ্ছেন। নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষকে বেহেশতের লোভ দেখিয়ে ভোট চাওয়া এবং বর্তমানে চলমান সস্তা রাজনৈতিক কৌশল পুরোপুরি বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের আগে ভোটারদের সামনে বিভিন্ন লোভ দেখানো হলেও এবং দুর্গাপূজার সময় ঢাকের তালে নেচে সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা করলেও ভোটের পর তাদের আর কোনো পূজা মণ্ডপে দেখা যায়নি। একই সাথে এক দফার নামে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টাও চালানো হচ্ছে।

বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি করার চর্চায় বিএনপি বিশ্বাসী নয়। জনগণের সামগ্রিক মন জয় করে দলটি আবারও দেশবাসীর আস্থায় ফিরে আসবে।