অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম.
রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন. প্রসিকিউটর তামিম জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সিদ্ধান্তের অন্যতম দুজন অভিনেতা ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক. তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্য দিয়েছেন বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা.
জবানবন্দিতে বিটিআরসির ওই কর্মকর্তা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সামনে এনেছেন. এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই এই সাক্ষীকে বাংলাদেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোর-জি ও থ্রি-জি ইন্টারনেট বন্ধ করার নির্দেশ দেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক. এরপর ১৬ জুলাই আবু সাইদসহ ছয়জন নিহত হওয়ায় বিটিআরসির একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নেন পলক ও জয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা.
প্রসিকিউটর আরও জানান, এনটিএমসির তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানও বৈঠক করে সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেন. এসব বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন বিটিআরসির ওই সাক্ষী. একইসঙ্গে ট্রাইব্যুনালে মোট পাঁচটি নথি উপস্থাপন করা হয়. ইন্টারনেট বন্ধ করার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনে চালানো গণহত্যার খবর যেন দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক মহল জানতে না পারে. আর এই খবর আড়াল করতেই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার.
মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় ১৮ ও ১৯ জুলাই রাজধানীর উত্তরাসহ এর আশপাশের কয়েকটি থানা এলাকায় নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করেছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা. যার ফলশ্রুতিতে বেশ কয়েকজন ছাত্র-জনতা নিহত হন. তাদের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একটি ন্যায্য দাবির আন্দোলনে সরকারের নিপীড়নের সমালোচনা শুরু করে সাধারণ মানুষ.
তিনি বলেন, এরপর পদ্ধতিগত অপরাধ হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় তৎকালীন সরকার. যেন মানুষ এই গণহত্যার খবর কোনো মাধ্যমেই জানতে না পারে. ঠিক পরদিন ১৯ জুলাই যখন আবারও একইভাবে গণহত্যা পরিচালিত হয় এবং সেই খবর মানুষ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছিলেন, তখন ১৯ জুলাই রাতে সরকারি সিদ্ধান্তে কারফিউ জারি করা হয়. এরপর ২০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এভাবে নির্বিচারে সারাদেশে আন্দোলনকারীদের হত্যা ও আহত করা হয়.
এই মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল. প্রসিকিউটর জানান, প্রতিটি অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ, চাক্ষুষ সাক্ষী এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং এই মামলা তারা প্রমাণ করতে পারবেন বলে দৃঢ় আশাবাদী.

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন