অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ এবং বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর বাতিলের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার মিছিলটি ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বাধা দেয় পুলিশ এবং বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
দিল্লির কনট প্লেস এলাকার বাংলা সাহিব গুরুদুয়ারা থেকে প্যাটেল চকের কাছে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন কার্যালয় পর্যন্ত এই পদযাত্রার ডাক দেয় ‘পিপল অ্যাগেইনস্ট এসআইআর’ নামের একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষার্থী, কৃষক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সমন্বয়ে সপ্তাহখানেক আগে গড়ে ওঠা এই জোটে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও সংহতি জানিয়ে যোগ দেন।
এর আগে ১৮ অক্টোবর এক বিবৃতিতে জোটের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই মিছিলের জন্য পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতির তোয়াক্কা করা হবে না। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বলপ্রয়োগ না করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল তারা। ‘প্রতিটি গলি যন্তর মন্তর, প্রতিটি গ্রাম যন্তর মন্তর, আমার বাড়িই যন্তর মন্তর’ স্লোগানে দেশব্যাপী প্রচারণার পরিকল্পনা নিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে এই বিতর্ক কেবল দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ নেই; ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার কেরালা রাজ্যে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও সহযোগী ছাত্র সংগঠনগুলো। নতুন রাজ্যপাল ওম প্রকাশ মাথুরের দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই লোকভবন অভিমুখে এই মিছিল বের করা হয়।
একই দিন পাঞ্জাব বিধানসভায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপন করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা। সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নানা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত দাবি করা হয়।
অন্যদিকে তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা অর্চনা পট্টনায়েকের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম ও তাদের জোটের নেতারা। বৈঠক শেষে রাজ্যের আইনমন্ত্রী সি টি আর নির্মল কুমার অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নজিরবিহীন অনিয়ম ও ভুলত্রুটি করা হয়েছে। যার দায় নিয়ে অবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ করা উচিত।
দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা মন্দির মার্গ থানায় হাজিরা দিয়েছেন। দুটি মামলার তদন্তে অংশ নিতে পুলিশ অপরাধ তদন্ত শাখার তলব থাকলেও এর আগে তারা হাজির হননি। থানার বাইরে সৌরভ সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের আচরণ ও আইনি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করে তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
রাজনৈতিক এই উত্তাপের মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ তীব্র দ্বন্দ্বের চিত্র।
কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার এক শীর্ষ কর্মকর্তার দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়াই ওই কর্মকর্তা একক সিদ্ধান্তে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করেছেন। তথ্য জানার অধিকার আইনে মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় থেকে পাওয়া ১৪ পৃষ্ঠার নথিতে এই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দলটিকে পরজীবী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নয়াদিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, কংগ্রেসের অযৌক্তিক রাজনীতির কারণেই সংস্কারকামী প্রকৃত আন্দোলনগুলোর কণ্ঠ হারিয়ে যাচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন