শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

দুধ বা চিনি নয়, কফি খাওয়ার অভ্যাসে বিপদ বাড়াচ্ছে অন্য যে উপাদান

স্বাস্থ্য ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

দুধ বা চিনি নয়, কফি খাওয়ার অভ্যাসে বিপদ বাড়াচ্ছে অন্য যে উপাদান

সকালের আলসেমি কাটিয়ে শরীর ও মন চনমনে রাখতে এক কাপ গরম কফির জুড়ি মেলা ভার। পরিমিত মাত্রায় পান করলে এটি যেকোনো সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে কফির কাপে চুমুক দেওয়ার আগে তাতে কী মেশানো হচ্ছে, তা নিশ্চিত হওয়া শরীরের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সাধারণত কফিতে অতিরিক্ত ক্যালোরির জন্য দুধ এবং চিনিকেই সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কফিতে মানুষের ধারণার চেয়েও বহুগুণ বেশি ক্ষতিকর ক্যালোরি যোগ করছে ভিন্ন আরেকটি অনুষঙ্গ।

আমেরিকান একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটিকসের জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় প্রায় ৩০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান নাগরিকের দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যাভ্যাস নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কফি গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে ক্যালোরি প্রবেশের মাত্রা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দীর্ঘ দেড় দশকে মানুষের দৈনিক কফি পানের গড়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, কফিতে দুধের বিকল্প হিসেবে নন-ডেইরি ক্রিমারের অতিরিক্ত ব্যবহার বেড়ে যাওয়াই এই বিপদের প্রধান উৎস।

যুক্তরাষ্ট্রের টফটস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরীক্ষা জরিপের আটটি পৃথক ধাপের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এতে ২০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখা হয়।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ দিনে গড়ে প্রায় ৩৮০ মিলিলিটার কফি পান করতেন। অথচ কফি থেকে প্রতিদিন শরীরে জমা হওয়া ক্যালোরির পরিমাণ ৪৩ থেকে লাফিয়ে ৬০-এ পৌঁছেছে।

২০১৮ সালের মধ্যে কফিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ক্যালোরি যোগ করার ক্ষেত্রে দুধ ও চিনিকে পেছনে ফেলে নন-ডেইরি ক্রিমার শীর্ষে উঠে আসে। সে সময় নন-ডেইরি ক্রিমার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৮ দশমিক ৫ ক্যালোরি শরীরে যুক্ত হচ্ছিল। বিপরীতে সাধারণ চিনি থেকে ১৬ ক্যালোরি এবং গরুর দুধ থেকে আসছিল মাত্র ১১ ক্যালোরি।

গবেষণার প্রধান গবেষক ইয়ংয়ি পান জানিয়েছেন, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের হার এখন দুধ ও চিনি দুটোকেই ছাড়িয়ে গেছে। এসব বিকল্প ক্রিমারে উচ্চমাত্রার সম্পৃক্ত চর্বি থাকে, যা বিপুল ক্যালোরিতে পূর্ণ। ১৯৫০-এর দশকে বাজারে এলেও উদ্ভিদভিত্তিক বা দুধমুক্ত স্বাস্থ্যকর বিকল্পের মোড়কে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর ব্যবহার বিপজ্জনক হারে বেড়েছে।

নন-ডেইরি ক্রিমার মূলত গরুর দুধের বিকল্প হিসেবে কফিকে মসৃণ ও কিছুটা মিষ্টি করতে তৈরি করা হয়। তবে দুধমুক্ত হলেই যে সেটি স্বাস্থ্যসম্মত, তা নয়। অনেক পণ্যে উদ্ভিজ্জ তেল, বাড়তি চিনি ও রাসায়নিক উপাদান মেশানো থাকে, যা পুষ্টির মান নষ্ট করে।

গবেষণার তথ্যে দেখা যায়, ২০০৩ সালে মানুষ যেখানে প্রতিদিন গড়ে তিন দশমিক চার গ্রাম নন-ডেইরি ক্রিমার খেত, ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট গ্রামে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর অর্থ এই নয় যে সাধারণ দুধ বা চিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ। গরুর দুধে প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকে, আর চিনি শুধু বাড়তি ক্যালোরি যোগ করে। তবে ক্রিমারে থাকা কৃত্রিম উপাদানের ক্ষতি আরও ব্যাপক হতে পারে।

কফি সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে কেনার আগে মোড়কের লেবেল ও উপাদান যাচাই করা, চামচ মেপে পরিমিত ক্রিমার ব্যবহার করা, ক্রমান্বয়ে এর মাত্রা কমিয়ে আনা, চিনিবিহীন উপাদান বেছে নেওয়া এবং অতিরিক্ত ফ্লেভারযুক্ত মিষ্টি সিরাপ পরিহার করা।