অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১১:২০ এএম
ফ্রান্সে নতুন করে দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শনিবারের ঘোষিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে বড় ধরনের সংঘাত ও সহিংসতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরাসি সরকার। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন শহরে ব্যাপক সহিংসতা, ভাঙচুর ও নজিরবিহীন লুটপাটের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। তবে খুব দ্রুতই জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যুক্ত হয়ে তা সারা দেশে এক গণ-অসন্তোষে রূপ নেয়। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা ও দোকানপাটে লুটপাটের উসকানি ছড়ানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দাবি পূরণে সুস্পষ্ট ও কার্যকর প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। গত সপ্তাহের সহিংসতার ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইতোমধ্যে ২১৭ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাজধানী প্যারিস, লিয়োঁ ও অরলেয়াঁসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সভা-সমাবেশ ও মিছিলের ওপর কঠোর প্রশাসনিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বিশেষ করে অরলেয়াঁ শহরে কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল র্যালির নির্ধারিত সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। উদ্ভূত সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্যারিসের বিশ্বখ্যাত লুভর জাদুঘরসহ বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শনিবার বন্ধ রাখার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারের আরোপিত এসব কঠোর বিধিনিষেধের তীব্র সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঢালাও প্রশাসনিক পদক্ষেপ মানুষের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মৌলিক অধিকারকে চরমভাবে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নিয়ন্ত্রণমূলক ও দমনমূলক বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অপর মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন