শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,
বঙ্গোপসাগরে দুর্যোগের পূর্বাভাস

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের লক্ষণ: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রূপ নিতে পারে পূর্ণাঙ্গ রূপ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১১:১৬ এএম

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের লক্ষণ: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রূপ নিতে পারে পূর্ণাঙ্গ রূপ

দক্ষিণ-পূর্ব ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আভাস মিলেছে। শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পরবর্তী তিন থেকে চার দিন ক্রমান্বয়ে শক্তি বাড়াতে থাকবে। আগামী ছয় থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপ এবং সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

বর্তমানে এই সিস্টেমটির কেন্দ্র থেকে ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বাতাসের গড় সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সাগর ধীরে ধীরে উত্তাল হয়ে উঠছে।

এখন পর্যন্ত দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংকেত জারি করা হয়নি। তবে যেকোনো সময় সতর্কবার্তা আসতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরে অর্থাৎ গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিডব্লিউওটি। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলেদের উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাস বলছে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা গড়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এরপর শক্তি সঞ্চয় করে এটি ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে মোড় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম-মধ্য এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে এটি নিজের সর্বোচ্চ শক্তিমত্তা অর্জন করতে পারে। তবে এটি ঠিক কতটা শক্তিশালী হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে স্পষ্ট নয়।

ঘূর্ণিঝড়টি থেকে বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি আঘাত হানার বা বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কোনো ঝুঁকি এখন পর্যন্ত নেই বলে জানিয়েছে বিডব্লিউওটি। পূর্ণাঙ্গ রূপ নেওয়ার পর আগামী ২৮ অক্টোবরের দিকে এটি ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ অথবা সংলগ্ন দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

সরাসরি আঘাত না হানলেও দূরবর্তী প্রভাবে বাংলাদেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ভারতে আঘাতের সময় সেখানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

অন্যদিকে এই সিস্টেমের পরোক্ষ প্রভাবে আগামী ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে দেশের ওপর একটি বিস্তৃত বৃষ্টি বলয় সক্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। তবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা খানিকটা কম থাকতে পারে।