অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বইতে শুরু করেছে উত্তরের শীতল হাওয়া। প্রকৃতিতে এখন শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের দিন চললেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে শীতের পদধ্বনি। গত এক সপ্তাহ ধরে এখানকার আবহাওয়ায় লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দিনের বেলায় সূর্যের তাপে গরম থাকলেও রাতের বেলা নামছে হালকা ঠান্ডা। শেষ রাতের দিকে শীতের তীব্রতা কিছুটা বাড়ে।
ভোরের আকাশে জমছে কুয়াশার স্তর। সকালের আলো ফুটতেই সবুজ ধানের শিষ ও দুর্বাঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু জ্বলজ্বল করে উঠছে। দূর থেকে ফসলের মাঠ দেখলে মনে হয় সবুজ পাতার ওপর যেন মুক্তার দানা ছড়িয়ে রাখা হয়েছে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে আগাম শীতকালীন শাকসবজি। সরবরাহ কিছুটা সীমিত থাকায় বাজারদর এখন কিছুটা চড়া। তবে আগাম ফসল তুলে বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি করতে পেরে কৃষকদের মুখে তৃপ্তির হাসি দেখা যাচ্ছে।
লেপ-তোশকের দোকানে এখন কারিগরদের দম ফেলার ফুরসত নেই।
তবে এবার শীতের শুরুতেই লেপ-তোশক তৈরির খরচ এক ধাক্কায় বেড়ে গেছে। তুলার মূল্যবৃদ্ধি, কাপড়ের চড়া দাম এবং শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। কারিগররা জানাচ্ছেন, সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা আগের মতো কম খরচে কাজ করতে পারছেন না। ফলে ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত খরচের হিসাব ধরে দরদাম করছেন।
গ্রামের মেঠোপথে এখন গাছিদের আনাগোনা বেড়েছে। খেজুরের রস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গাছ চাঁছা ও প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। গাছ কাটার এই মৌসুমে গাছিদের কদরও আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মজুরি কম হলে তারা আর গাছে ওঠার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।
এদিকে নতুন চারা রোপণের অনাগ্রহের কারণে গ্রামাঞ্চল থেকে ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ দিনে দিনে কমে আসছে। নতুন প্রজন্ম খেজুরের চারা লাগাতে আগ্রহ না দেখায় গাছ কমে যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
শীতের আমেজ বাড়তেই গফরগাঁওয়ের মোড়ে মোড়ে এবং হাটবাজারে জমে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান। ভাপা ও চিতই পিঠার পাশাপাশি রয়েছে হরেক রকমের ভর্তার আয়োজন। গ্রামীণ পরিবারের কর্মহীন শ্রমজীবী নারীরা এসব দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহের পথ খুঁজে পাচ্ছেন। প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় গরম পিঠার স্বাদ নিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন।
পিঠা খেতে আসা আবু বক্কর নামে এক স্থানীয় রিকশাচালক জানান, ভোরবেলায় গরম পিঠা খাওয়া তার দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ভোরে পিঠা খেয়ে তিনি রিকশা নিয়ে জীবিকার সন্ধানে রাস্তায় নামেন।
গফরগাঁও পৌর এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী তপন খান প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণে বের হন। তিনি জানান, গত সাত দিন ধরে সকালে হাঁটার সময় শীতের অনুভূতি বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। তার মতে, রাতের বেলা এখন আর বৈদ্যুতিক পাখার দরকার পড়ছে না, আর পাখা চালালে কাঁথা গায়ে জড়াতে হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন