অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও জাতীয় উন্নয়ন উদ্যোগে পাশে থাকার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বাংলাদেশকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মৌলিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এক অকৃত্রিম বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।
টোকিওতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর এই সমর্থনের বার্তা স্পষ্ট হলো।
চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শীর্ষ বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন বৈশ্বিক মূল্যবোধের অংশীদার বন্ধু হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
তাকাইচি জোর দিয়ে বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের জাতি গঠনমূলক প্রতিটি ইতিবাচক উদ্যোগে জাপান সর্বোচ্চ সমর্থন জুগিয়ে যাবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রতি টোকিওর স্পষ্ট স্বীকৃতি প্রকাশ পেয়েছে।
একই সঙ্গে মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে একটি অত্যন্ত কৌশলগত অংশীদার বলে আখ্যা দেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী। তিনি দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী ভৌগোলিক সেতু হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাকাইচি আরও উল্লেখ করেন, ১৭ কোটি মানুষের একটি বিশাল ও তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে বাংলাদেশ জাপানের জাতীয় অর্থনীতির জন্যও ক্রমান্বয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত করতে উভয় নেতা একমত পোষণ করেছেন। দুই সরকারপ্রধানের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্পটি এখন থেকে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ শীর্ষক একটি নতুন ও বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোতে উন্নীত হবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার পর জাপানের দ্রুত কূটনৈতিক স্বীকৃতির ঐতিহাসিক মুহূর্তকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের শিল্প, অবকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপানের অবিচল সহায়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং জাপানের জনগণকে বাংলাদেশের পরম বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।
শীর্ষ বৈঠকের সমাপ্তিতে প্রকাশিত ‘নেতৃবৃন্দের যৌথ বিবৃতি’র আলোকে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। অঞ্চলটিতে টেকসই শান্তি, স্থায়িত্ব এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ভবিষ্যতে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন