অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার নিজের দায়িত্ব পালনকালে অর্জিত সফলতা, ব্যর্থতা ও ভুলের হিসাব দিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সরাসরি প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন। দায়িত্ব শেষে এমন জবাবদিহিতার নজির ছাত্ররাজনীতিতে বিরল।
ফেসবুক পোস্টে সালাহউদ্দিন আম্মার উল্লেখ করেন, রাকসুর দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর এবার শিক্ষার্থীদের কাছে জবাব দেওয়ার পালা এসেছে। তিনি বলেন, তার মেয়াদে অর্জিত সফলতা, ব্যর্থতা, সর্বোচ্চ চেষ্টা কিংবা যেকোনো ভুলভ্রান্তি সবকিছুই তিনি সরাসরি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে চান।
নির্বাচনের আগের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি লেখেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থীদের নিয়ে নানা বাহাস ও উন্মুক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। তখন প্রার্থীরা নিজ নিজ ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলেছিলেন এবং শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে নির্বাচনের পর এমন একটি আয়োজন করা আরও বেশি অর্থবহ ও জরুরি। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি শোনা হলেও এবার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজের হিসাব নেওয়ার সময় এসেছে।
সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব আয়োজনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফটোকার্ড বানিয়ে কাজের বিবরণ দিলে তা সবার কাছে পৌঁছায় না। অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলন করলে অনেক সময় বক্তব্য খণ্ডিত বা কাটছাঁট হয়ে প্রচারিত হতে পারে। তাই তিনি চান একটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন হোক, যেখানে শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই সরাসরি এসে প্রশ্ন করবেন, প্রতিনিধিকে জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন এবং প্রতিনিধি তার মুখোমুখি জবাব দেবেন।
আম্মার জানান, শিক্ষার্থীরা তার কাজের তীব্র সমালোচনা করতে পারেন, কোথায় ব্যর্থতা ছিল তা তুলে ধরতে পারেন এবং ভুলগুলো সরাসরি ধরিয়ে দিতে পারেন। প্রশংসা, সমালোচনা কিংবা কঠিন বক্তব্য—সবকিছুই তিনি খোলামনে শুনতে প্রস্তুত। তিনি মন্তব্য করেন, জনপ্রতিনিধি হওয়ার মূল অর্থ শুধু ভোটের সময় সমর্থন চাওয়া নয়, বরং দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সাহসের সাথে নিজের কাজের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া।
নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি কখনোই দাবি করছেন না যে সবকিছু নির্ভুল বা শতভাগ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছেন। তার যতটুকু সামর্থ্য ও সময় ছিল, তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছেন এবং সেই চেষ্টার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণই তুলে ধরতে চান। এই উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা মূলধারার কোনো গণমাধ্যম সরাসরি শিক্ষার্থী-প্রতিনিধি সংলাপ আয়োজন করতে পারে।
তিনি আরও প্রস্তাব করেন, কোনো পূর্বনির্ধারিত চিত্রনাট্য বা সাজানো প্রশ্ন ছাড়া ভিপি, জিএস এবং এজিএসসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অবাধ বিতর্ক অনুষ্ঠান হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেবেন এবং প্রতিনিধিরা তার উত্তর দেবেন। আম্মার উল্লেখ করেন, অর্পিত পদটি কোনো ব্যক্তির নিজস্ব সম্পত্তি ছিল না, বরং তা ছিল শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি পবিত্র আমানত, আর সেই আমানতের হিসাবও তাদের সামনেই দেওয়া উচিত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন