মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,

ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের ১৭ নেতাকর্মী কারাগারে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের ১৭ নেতাকর্মী কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে পুলিশের দায়ের করা নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগের ১৭ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা স্থায়ী জামিনের আবেদন জানালে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের এই আদেশ ঘোষণার পরপরই প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জামিন বাতিলের খবর জানার সাথে সাথে আদালত ভবনের সামনে জড়ো হয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হলে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো আদালতপাড়ায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কারাগারে পাঠানো ১৭ জন নেতাকর্মী হলেন—সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখতারুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুমন মণ্ডল, সেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ পারুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহারুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বাদশা, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল জলিল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রাজিউর রহমান রাজু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ডাবলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন, দলীয় কর্মী জনি, ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটির সদস্য পারভেজ হাসান, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি জিল্লুর রহমান জুয়েল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সাগর খন্দকার, পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিউর রহমান রাজু, সদস্য রায়হান মিসবাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল হোসেন এবং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট পীরগঞ্জে দলীয় ব্যানারে আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুল ইসলামের বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই অনুষ্ঠানের স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনার জেরে পীরগঞ্জ থানার পুলিশ বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রথমে ফজলুল হক ও কার্তিক রায় নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়, যাদের পরে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছিল।

মামলার অন্য আসামিরা ইতিপূর্বে উচ্চ আদালত থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সেই জামিনের মেয়াদ শেষে নির্ধারিত তারিখে জেলা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন প্রার্থনা করলে আদালত আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।