মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,
সাগর-রুনি হত্যা মামলা

সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রী ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এই তথ্য জানানো হয়।

আদালতে শুনানি শেষে তদন্ত শেষ করতে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ নিয়ে তদন্তের জন্য চতুর্থবারের মতো সময় পেল টাস্কফোর্স।

মামলাটির পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। ওই দিন টাস্কফোর্স এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আদালতে সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে দাখিল করা তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়, টাস্কফোর্সের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান যে তারা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন এবং তা যাচাই-বাছাই করছেন। প্রাথমিক যাচাই শেষ হলে প্রাপ্ত সব তথ্য ও আলামত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তারা নিশ্চিত করেন।

মঙ্গলবার হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। অন্যদিকে বাদীপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

পরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত টাস্কফোর্স দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত মোট ৯০ জন সাক্ষীকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং ২৪ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে।

তদন্ত প্রক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বক্তব্য দেন যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত জব্দ করেছে। এসব আলামতের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ভৌগোলিক অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য (জিও-লোকেশন), খুদে বার্তা (এসএমএস) এবং কল ডিটেইল রেকর্ডের (সিডিআর) প্রিন্ট করা কপি রয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও উল্লেখ করেন, জিয়াউল আহসানের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন র‍্যাব সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদকালেও এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউল আহসান ও এক মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায় বলে তদন্তে উঠে আসে। পরবর্তীতে আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য সমর্থন করেন এবং ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়া শেষে তথ্যগুলো পিবিআইকে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন।

ইতোমধ্যে পিবিআইয়ের তদন্ত দল সংশ্লিষ্ট কৌঁসুলিদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছে। তদন্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক প্রাপ্ত আলামত চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন এবং অগ্রগতি প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টি আদালতের সামনে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিনের তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাবকে তদন্তভার থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সে সময় ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আদালতের অবকাশকালীন ছুটির কারণে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হয়।