অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুরু হলো বিচারের পরবর্তী আইনি ধাপ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রথমে প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনে জমা দেয়। পরবর্তীতে প্রসিকিউশনের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (২৬ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে তা ট্রাইব্যুনালের বিচারিক বেঞ্চে দাখিল করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত করা সাত শীর্ষ নেতা হলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল অব মুহম্মদ ফারুক খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
তদন্ত সংস্থার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী সশস্ত্র হামলা ও উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অপরাধের তালিকার মধ্যে রয়েছে নিরীহ ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণ। এসব মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড সংঘটনে প্রত্যক্ষ প্ররোচনা, উসকানি প্রদান, লজিস্টিক ও নীতিগত সহায়তা এবং ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলো সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতা, নিজ নিজ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত না করা এবং সামগ্রিক দমন-পীড়নের পেছনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়ার পর এখন অভিযোগ আমলে নেওয়া, আনুষ্ঠানিক চার্জ বা অভিযোগ গঠন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াগুলো ক্রমানুসারে এগোবে।
অভিযুক্ত সাতজন ব্যক্তিই আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারণেও তাদের সরাসরি ভূমিকা ছিল। তাদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, শাজাহান খান, কর্নেল অব মুহম্মদ ফারুক খান ও মির্জা আজমের বিরুদ্ধে এই প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন