সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,

জাপানের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম

জাপানের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে

জাপানের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) দেশটিতে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ৩৪৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। সুদূর প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই তিন মাসে দেশের মোট পোশাক রপ্তানিতে জাপানের হিস্যা বেড়ে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা বিগত চার বছরের মধ্যে যেকোনো একক প্রান্তিকের হিসাবে সর্বোচ্চ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৫৮ কোটি ডলারের। এর মধ্যে জাপানের একক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক আমদানিকারক দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের শক্ত অবস্থান তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই অগ্রগতির বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল জানান, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের হিস্যা আরও বাড়ানোর মতো যথেষ্ট বাস্তবসম্মত সুযোগ রয়েছে। দেশটির সুবিশাল অভ্যন্তরীণ আমদানি বাজার এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মোট রপ্তানিতে জাপানের আনুপাতিক অংশ বৃদ্ধি সেই সম্ভাবনাকে অনেক বেশি স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই আন্তর্জাতিক সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হলে দেশের তৈরি পোশাক খাতে টেকসই বাজার বৈচিত্র্য আসবে এবং গুটিকয়েক প্রচলিত পশ্চিমা বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে।

তবে বিগত কয়েক বছর ধরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির গ্রাফে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশটিতে মোট ১১৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। পরবর্তী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১০৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। এর পরের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবার ৯ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় এবং রপ্তানি পৌঁছায় ১১৯ কোটি ডলারে। কিন্তু গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই ধারা ব্যাহত হয়ে রপ্তানি পুনরায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১১৩ কোটি ডলারে এসে ঠেকে।

গেল অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয়েও কিছুটা মন্থর গতি ছিল। ইপিবির তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক পোশাক রপ্তানি তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে তিন হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। এর প্রভাবে সে সময় জাপানের হিস্যাও কমে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে নতুন অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের শক্ত পুনরুদ্ধার সেই মন্দাভাব কাটিয়ে ওঠার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জাপানের নিজস্ব আমদানি পরিসংখ্যানও বাজারটির বিপুল গভীরতার প্রমাণ বহন করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে জাপান বিশ্ববাজার থেকে দুই হাজার ৪৯৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছিল। পরবর্তী ১২ মাসে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তাদের আমদানি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়ে দুই হাজার ৩১৪ কোটি ডলারে নামে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি পুনরায় পোশাক কেনা বাড়ায় এবং ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে আমদানি পৌঁছায় দুই হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দুই হাজার ৪১৯ কোটি ডলারে উন্নীত হয়।

চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসেই বৈশ্বিক বাজার থেকে মোট ৪০৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে জাপান। বিশাল এই আমদানির বাজারে বাংলাদেশ নিজের অংশীদারত্ব আরও সংহত করতে পারলে তা সার্বিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও নতুন বাজার সৃষ্টির দ্বিমুখী লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।